গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ সূচকের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনে বড় ধরনের পতন বাজারের তারল্য ও অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূচকের উত্থান কি টেকসই, নাকি সীমিত কিছু শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল—এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চলছে আলোচনা।
গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বা ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়ে ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট যোগ হয়ে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএসও ২১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৪টির দর বেড়েছে, ৮৩টির কমেছে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেন হয়নি ২৪টির। সূচক বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক ও রবি আজিয়াটার শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যু ঘিরে সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শেয়ারে জোরালো ক্রয়চাপ সূচক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল নীতিতে শিথিলতাও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
তবে সূচক বাড়লেও লেনদেনে বড় ধরনের পতন হয়েছে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার বেশি। সে হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংক খাত শীর্ষে ছিল, মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ দখলে নিয়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত (১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ), তৃতীয় খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত (১০ দশমিক ৪০ শতাংশ)। এছাড়া বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাত ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ লেনদেন দখল করে।
রিটার্নের দিক থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। বিপরীতে করপোরেট বন্ড খাতে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা খাতেও সামান্য নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
অন্যদিকে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও সূচকের উত্থান হয়েছে। সিএএসপিআই সূচক ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসসিএক্স সূচক ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৫৮৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও লেনদেনে বড় পতন বাজারের তারল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এখন নজর নতুন সপ্তাহের দিকে। বাজারে অংশগ্রহণ ও লেনদেনের গতি বাড়লে সূচকের ইতিবাচক ধারা আরও শক্ত ভিত্তি পেতে পারে। অন্যদিকে লেনদেন নিম্নমুখী থাকলে সূচকের উত্থান স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। তাই নতুন সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বার্তাই নির্ধারণ করবে পুঁজিবাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।