আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী শনিবার (৭ শে জুন) মাঝে মাত্র ১ দিন বাকি। আজ এবং আগামীকাল কোরবানির পশু ক্রয় সম্পন্ন করবেন। কোরবানির পশু ক্রয় করতে যাবার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে চলা অতীব জরুরী।
আমাদের সারা বছর গরু কাছ থেকে দেখা হয়না, বছরে একবার কোরবানির হাটে অনেক গরু দেখতে পাই। তাই আমাদের অনেক কৌতুহল থাকে। কোরবানির পশু ক্রয় করতে যাবার ও আসার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।
নিন্মে কিছু জরুরী প্রয়োজনীয় বিষয় খেয়াল উপস্থাপন করা হলো
- কোরবানির গরু কিনতে যাওয়ার সময় অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত, যিনি ভালো ও সুস্থ গরু সঠিক চিনতে পারেন।

- কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে বয়স বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। গরুর ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে দুই বছর হওয়া দরকার। সাধারণত এটা গরুটির দাঁত দেখে বুঝা যায়। সুস্থ পূর্ণবয়স্ক গরুর দাঁত দেখে ৫ বছর পর্যন্ত বয়স সনাক্ত করা যায় নিখুঁত ভাবে। ২ বছর বয়সী একটি সুস্থ গরুর দু’টি স্থায়ী কর্তন দাঁত থাকে, ৩ বছর বয়সে চারটি, ৪ বছর বয়সে ছয়টি ও ৫ বছর বয়সে পুরো মুখে সর্বমোট আটটি স্থায়ী কর্তন দাঁত থাকে। দাঁতগুলো অক্ষত এবং দেখতে সুন্দর হয়।
- ছাগলের ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে এক বছর হওয়া উচিত। উটের ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছর ভেড়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক বছর বয়স হতে হবে, তবে ছয় মাস বয়সী ভেড়া যদি বড়সড় হয় অর্থাৎ যদি দেখতে এক বছর বয়সের মত দেখায় তাহলে সেই ভেড়া কোরবানি করা যাবে।
- দিনের আলো থাকতেই পশু কেনা ভালো। কেননা রাতের বেলায় পশু রোগাক্রান্ত নাকি সুস্থ তা ভালোভাবে বোঝা যায় না এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসুস্থ গরু কেনার সম্ভাবনা থাকে।
- পশুর মুখের সামনে কিছু খাবার ধরে দেখুন। সুস্থ পশু হলে নিজ থেকে জিভ দিয়ে খাবার টেনে নিয়ে খেতে থাকবে। অসুস্থ পশু সচরাচর খাবার খেতে চায় না।
- পশুর নাকের দিকে লক্ষ করুন। সুস্থ পশুর নাকের উপরটা ভেজা ভেজা থাকে।

- গর্ভবতী গরু কোরবানি দেওয়া হারাম। তাই সবার আগে সেটা নিশ্চিত হয়ে নিন।
- সুস্থ পশুর পিঠের কুঁজ মোটা ও টান টান হয়।
- গরু কেনার ক্ষেত্রে দেশি গরু কেনা ভালো। কেননা সীমান্ত পার হয়ে আসা বাইরের গরুগুলো ভ্রমনের কারনে বেশ ক্লান্ত থাকে, অনেক সময় ছোট-খাট আঘাতপ্রাপ্তও হয়। আর এধরণের ঝিমাতে থাকা গরু সুস্থ নাকি অসুস্থ সেটা বোঝা বেশ কঠিন।
- সাধারনত বড় সাইজের গরুগুলোকে ইনজেকশন বা হরমোন ট্যাবলেট খাওয়ানো হয় বেশি। তাই কোরবানি করার জন্য বড় গরু না কিনে মিডিয়াম সাইজের গরু কেনা নিরাপদ।
- মোটা গরু মানেই সুস্থ বা ভালো গরু নয়। মোটা গরুতে চর্বি অনেক বেশি থাকে, যা খেলে পর মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আর অস্বাভাবিক মোটা গরু বিভিন্ন ঔষধ পুশ করে মোটাতাজাকৃত হতে পারে। তাই এধরণের গরু বর্জন করুন।
- শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে হরমোন দেয়া গরু বেশি মোটা দেখায়। এদের গায়ে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে সেখানে দেবে গর্ত হয়ে থাকে অথবা সাথে সাথে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না।
- পশু কেনার আগে এর শরীরের কোথাও ক্ষত আছে কিনা পরীক্ষা করে নিন। শিং ভাঙ্গা আছে কিনা, লেজ, মুখ, দাঁত, খুর এসব কিছুই পরীক্ষা করে দেখুন, কোন খুঁত চোখে পড়ে কিনা।
- কোরবানির পশু ক্রয় করতে আমরা আমাদের আদরের কম বয়সী ছোট বাচ্চাদের নিয়ে যাই। এই বিষয়ে খুব সাবধান, খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চারা কখনোই কোন গরুর সামনে বা পিছনে না দাড়ায়।
- বাজারে হুট করে হাটতে থাকা গরু ভোদৌড় দেয়, তাই সব সময় সজাগ থাকতে হবে ছোট বড় সবাইকে।
- গরুর হাটে প্রচুর পকেটমার আছে, তাই টাকা পয়সা সাবধানে রাখতে হবে। সামনের পকেটে বা পাঞ্জাবী পকেটে টাকা সাবধানে রাখুন।
- দেখে-শুনে দেশি গরু কেনার চেস্টা করুন।

- দেখতে নাদুস-নুদুস গরু বেশির ভাগই বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জেকশন দেয়া থাকে। তাই যাছাই বাছাই করে কিনুন। গ্রাস ফিড গরু কিনতে চেস্টা করুন।
- গরু বহনের অভিজ্ঞতা না থাকলে অনেক দূরে হাটিয়ে না নেয়াই উত্তম। দূরে গেলে অবশ্যই পিকাপ ভ্যানে নিন। পিকাপ ভ্যানে উঠে খেয়াল রাখবেন গরুর পারা আপনার পায়ে পরলে বেশ বিপদ।
- গরু কেনার পরে বাজারে অথবা বাসার কাছে এসে ছোট বাচ্চা বা অনভিজ্ঞ কারো হাতে গরুর রসি ধরিয়ে দিবেন না। গরু ছুটে দৌড় দিলে গরু ধরা অনেক কৌশল, কস্টসাধ্য ও শক্তির ব্যাপার হয়ে দাড়ায়।
এসব বিষয় খেয়াল করে কোরবানির পশু কিনলে অপ্রত্যাশিত বিপদ ও অস্বস্তি থেকে বাঁচা সম্ভব।