অর্থ লিপি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের করনীয়

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে চালু হয়েছে স্বল্প ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির লেনদেন প্রায় দুই বছর হল। এই বাজারটি আমাদের এখনো আমাদের অনেকের কাছে নতুনই রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী স্বল্প ও মাঝারি মূলধনী বাজারের বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের জন্য আজকে এসএমই’র বিস্তারিত।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) স্বল্প মূলধনের কোম্পানির জন্য বিএসইসি (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার বাই স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানি) রুলস-২০২২ প্রণয়ন করেছে। এরপর ২০১৯ সালের ৩০শে এপ্রিল ডিএসই স্মল ক্যাপ মার্কেট (এসএমই) প্লাটফর্ম উদ্বোধন হয়।

স্বল্পমূলধনি কোম্পানি তালিকাভুক্তির জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের মাধ্যমে পুঁজি উত্তোলন করতে হয়। আর এসব কোম্পানির শেয়ার শুধু কোয়ালিফাইড ইনভেস্টররাই লেনদেন করতে পারেন। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর বলতে বিনিয়োগসংক্রান্ত সম্যক ধারণা রয়েছে এমন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ নিট সম্পদধারী ব্যক্তিদের বোঝায়।

স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানির এই প্লাটফর্মে লেনদেন করতে হলে কোন কোম্পানিকে প্রাথমিকভাবে যে নিয়মগুলো অনুসরণ করে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার এর মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করতে হয়, সেগুলো হচ্ছে-

১। ক্যাপিটাল বাড়ানোর পর পেইড আপ ক্যাপিটাল নূন্যতম ৫ কোটি টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ কোটি হতে পারবে। তবে স্টার্ট আপ কোম্পানির ক্ষেত্রে উক্ত নিয়মাবলী শিথিল করতে কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

২। কোম্পানির এজিএম রেগুলার হতে হবে।

৩। সর্বশেষ আর্থিক বছরের নেট প্রফিট আফটার ট্যাক্স পজিটিভ হতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে উক্ত নিয়মাবলী শিথিল করতে কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

৪। প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের পর কোন মেটারিয়াল চেঞ্জ করা যাবে না।

৫। নূন্যতম ইস্যু অফার কোম্পানির নিজস্ব মূলধনের ১০% বা ৩ কোটি টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেই পরিমাণ অর্থের জন্য করা যাবে।

৬। ইস্যুয়ার অথবা এর পরিচালকগণ কেউ লোন ডিফল্টার থাকতে পারবে না।

৭। প্রিমিয়ামে শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে ক্রেডিট রেটিং লাগবে।

৮। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর এককভাবে অফারের ৫% এর বেশি আবেদন করতে পারবে না। নির্দিষ্ট ব্যাংকে আবেদনের পুরো অর্থ জমা দিতে হবে।

৯। ১০% এর অধিক শেয়ার মালিকানাধীন স্পন্সর, ডাইরেক্টর, শেয়ারহোল্ডার এর লকইন থাকবে দুই বছর। অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা ফরেন ইনভেস্টর ও অন্যান্যদের লকইন থাকবে ১ বছর।

১০। ইস্যু ম্যানেজমেন্ট ফি অফারকৃত ইস্যুর সর্বোচ্চ ১% বা ৫ লাখ টাকা যেটা কম।

১১। সাধারণ ও প্রিফারড শেয়ারের লিস্টিং ফি ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ০.১০% এবং এর উপরে ০.০৫%। তবে মিনিমাম ফি ৫০,০০০/- টাকা এবং সর্বোচ্চ ২.০০ লক্ষ টাকা।

১২। সর্বশেষ ৫ বছরের কিংবা পরিচালিত কার্যক্রম সময়ের অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

বর্তমানে ডিএসই’র এসএমই প্ল্যাটফরমে ১৭টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত। এরমধ্যে ৫টি কোম্পানি সরাসরি ওটিসি মার্কেট থেকে এবং ১২টি কোম্পানি কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

ইন্জিনিয়ারিং সেক্টরে ৩টি, ফুড এন্ড এ্যালাইড সেক্টরে ৩টি, টেক্সটাইল সেক্টরে ১টি, ফার্মাসিউটিক্যালস এন্ড ক্যামিকাল সেক্টরে ৪টি, ট্যানারি ইন্ডাষ্ট্রি সেক্টরে ১টি এবং বিবিধ সেক্টরে ৫টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে রয়েছে নিয়ালকো অ্যালয়স, কৃষিবিদ ফিড, কৃষিবিদ সিড, মাস্টার ফিড এগ্রোটেক, মোস্তফা মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ, মামুন এগ্রো প্রোডাক্টস, এমকে ফুটওয়্যার, অরিজা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাপেক্স ওয়েভিং, বেঙ্গল বিস্কুট, হিমাদ্রি, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজ, আছিয়া সি ফুডস, স্টার এডহেসিভ, বিডি পেইন্টস, ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস এবং আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।