টানা কয়েক কার্যদিবসের বিক্রির চাপ শেষে দেশের শেয়ারবাজারে ফিরেছে স্বস্তির আবহ। দর সংশোধনের ফলে অনেক মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার আকর্ষণীয় দামে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ক্রয় আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক কারেকশন বাজারকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ভিত্তি দিয়েছে। বিক্রির চাপ কমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এই ধারা টেকসই হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা এবং ধারাবাহিক ক্রয়চাপের ওপর।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৫৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮৩৯ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইএস (DSES) ১১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৮ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে এবং ডিএস-৩০ (DS30) সূচক ১৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০১ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও ছিল উল্লেখযোগ্য গতি। দিনভর ডিএসইতে মোট ৮৭২ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা থেকে প্রায় ৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বেশি। এদিন মোট ৩৭ কোটি ৭ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৫৩টির কমেছে এবং ৩৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে দিনভর বাজারে ক্রেতাদের প্রাধান্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল রিং শাইন টেক্সটাইল, যার শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া দেশবন্ধু পলিমার, ফার কেমিক্যাল, নিউ লাইন ক্লথিংস, জিএইচসিএল এবং ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড উল্লেখযোগ্য দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল ফেকডিল, যেখানে প্রায় ৩১ দশমিক ৭৮ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপর রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ডমিনেজ স্টিল, এমএল ডাইং এবং ডিএসএসএল।
অন্যদিকে দর পতনের তালিকায় ছিল প্রগ্রেসিভ লাইফ, নূরানি ডাইং, কুইন্স সাউথ, ওয়াইপিএল এবং বেক্সিমকো।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কারেকশন কোনো নেতিবাচক সংকেত নয়; বরং এটি একটি সুস্থ বাজারচক্রের স্বাভাবিক অংশ। সংশোধনের পর ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ার তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় মূল্যায়নে চলে আসায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়।
তারা বিনিয়োগকারীদের গুজব বা স্বল্পমেয়াদি আবেগে প্রভাবিত না হয়ে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, আয় সক্ষমতা, মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে বর্তমান ইতিবাচক প্রবণতা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে তাদের অভিমত।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।