অর্থ লিপি

৩০ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঋণখেলাপির মামলায় শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ১ টি কোম্পানির এমডি গ্রেপ্তার

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্পাত খাতের কোম্পানি রতনপুর স্টিল রি–রোলিং মিলস লিমিটেডের (RSRM) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুর রহমানকে ঋণখেলাপির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রতনপুর স্টিল রি–রোলিং মিলস লিমিটেডের পাশাপাশি তিনি মডার্ন স্টিলেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। মূলত মডার্ন স্টিলের ১৮৮ কোটি টাকা ঋণখেলাপির মামলায়ই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বেসরকারি ট্রাস্ট ব্যাংকের করা ঋণখেলাপির এক মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এ মামলায় মাকসুদুর রহমানসহ মোট চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। অপর তিন অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন কোম্পানিটির পরিচালক মোঃ আলাউদ্দিন, মাকসুদুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান ও মারজানুর রহমান। এই চারজনের বিরুদ্ধেই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এর মধ্যে মাকসুদুর রহমানকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা সূত্রে জানা গিয়েছে , ঋণখেলাপির এক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারের পর গত রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা–সংক্রান্ত আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযুক্ত আসামিদের কাছে ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ ঋণ এরই মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে কোনো সম্পদ বন্ধক নেই। ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা ও ট্রাস্ট রিসিটের বিপরীতে ব্যাংক মডার্ন স্টিলের উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই ঋণ পরিশোধ না করায় তা খেলাপি হয়ে গেছে। এমনকি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সুবিধা নেওয়ারও আবেদন করেনি। এ কারণে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা–সংক্রান্ত আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, আরএসআরএমের এমডি মাকসুদুর রহমানের কাছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০ শীর্ষ ঋণখেলাপির মধ্যে অন্যতম।

জানা গেছে চার অভিযুক্তের মধ্যে শনিবার দিবাগত রাতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক, তাঁদেরও গ্রেপ্তারে আদালতের নির্দশনা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি।

জানা গেছে, এর আগে ২০২২ সালের জুনেও অন্য এক ব্যাংকের ঋণখেলাপির মামলায় মাকসুদুর রহমান ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মাকসুদুর রহমানের মালিকানাধীন কোম্পানি আরএসআরএমের উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। বর্তমানে এটি দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ায় এবং কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকায় গত বছরের অক্টোবরে কোম্পানিটিতে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল বিএসইসি।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।