ভালো ও বড় কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে ‘Bangladesh Securities and Exchange Commission (Direct Listing of Securities by Stock Exchange) Rules, 2026’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে কমিশন।
বিএসইসি জানিয়েছে, অনুমোদিত খসড়াটি শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে। বিধিমালাটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতার কোম্পানিগুলো প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
যেসব কোম্পানি পেতে পারে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ
প্রস্তাবিত বিধিমালায় মোট ৭ শ্রেণির কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি
সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পেতে পারে।
২. আংশিক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি
যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ সরকারের মালিকানাধীন, তারাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
৩. টেলিকম ও আইসিটি অবকাঠামো কোম্পানি
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) অনুমোদিত টেলিকম ও আইসিটি অবকাঠামো খাতের নির্দিষ্ট যোগ্যতার কোম্পানিকে এ সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
৪. তফসিলি ব্যাংক
কমপক্ষে পাঁচ বছর সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা তফসিলি ব্যাংকগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পেতে পারে।
৫. আর্থিক প্রতিষ্ঠান
কমপক্ষে পাঁচ বছরের সফল কার্যক্রম পরিচালনাকারী যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এ তালিকায় রয়েছে।
৬. বড় টার্নওভারসম্পন্ন কোম্পানি
নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী এবং বার্ষিক অন্তত ২০০ কোটি টাকা টার্নওভার রয়েছে এমন কোম্পানিগুলো এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
৭. বড় সম্পদসম্পন্ন কোম্পানি
নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য এমন কোম্পানিও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পেতে পারে।
আইপিও ছাড়াই সরাসরি তালিকাভুক্তি
প্রস্তাবিত বিধিমালা কার্যকর হলে যোগ্য কোম্পানিগুলোকে প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা পার হতে হবে না। বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের নির্ধারিত অংশ অফলোড বা বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানিকে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করা হবে।
এর ফলে বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে প্রবেশের একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে।
বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিএসইসির এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো ভালো ও বড় কোম্পানিকে অপেক্ষাকৃত দ্রুত পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা এবং বাজারের গভীরতা বাড়ানো।
সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে নতুন ও শক্তিশালী কোম্পানির সংখ্যা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানি নির্বাচনের মানদণ্ড, আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিএসইসির অনুমোদিত খসড়াটি এখন জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায়। জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত বিবেচনার পর বিধিমালাটি চূড়ান্ত হলে দেশের পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।