বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে দীর্ঘদিন ধরেই T-1 সেটেলমেন্ট চালুর আলোচনা চলছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে লেনদেনের গতি বাড়বে, তারল্য উন্নত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের মূলধন দ্রুত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের অংশীজনদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি।
বর্তমানে দেশে শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হতে দুই কার্যদিবস সময় লাগে। T-1 চালু হলে লেনদেনের পরবর্তী কার্যদিবসেই শেয়ার ও অর্থের নিষ্পত্তি হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত নতুন বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন এবং বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বাজারে তারল্য বৃদ্ধি, লেনদেনের গতি উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের বাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রমও আরও দক্ষ ও সময়োপযোগী হবে।
তবে শুধু T-1 চালু করলেই বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, এমনটি মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দ্রুত নিষ্পত্তির সুবিধার পাশাপাশি পরিচালনাগত ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্বের অনেক উন্নত বাজার ইতোমধ্যে T-1 সেটেলমেন্টে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করে এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বাজারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।