মুনাফা অর্জন করা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিশেষ নির্দেশনার কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪০০তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এই ‘প্রাইস সেনসিটিভ ডিসক্লোজার’ বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য জানানো হয়।
লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণ:
ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএসডি-১১/৪৩(৩)/২০২৬-৫০৮ নং পত্রের (তারিখ: ২৮.০৪.২০২৬) নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের জন্য নগদ বা স্টক কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ৮৪৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রভিশন বা সঞ্চিতি ঘাটতি বজায় রেখেই যেন ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করা হয়।
আর্থিক পরিস্থিতির চিত্র (২০২৫):
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংক এককভাবে (Solo) ১০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং সমন্বিতভাবে (Consolidated) ১৩৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নীট মুনাফা করেছে। আগের বছর ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯৭ কোটি ১৩ লাখ এবং ১০৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ব্যাংকের নীট মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেয়ার প্রতি আয় (EPS): ২০২৫ সালে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ০.৮৫ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ০.৬৮ টাকা।
শেয়ার প্রতি নীট সম্পদ মূল্য (NAVPS): ২০২৫ সালে সমন্বিত ন্যাভ দাঁড়িয়েছে ৪৪.৫২ টাকা।
নগদ প্রবাহ (NOCFPS): ২০২৫ সালে এককভাবে শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২৬.১৪ টাকায় নেমেছে (গত বছর যা ছিল ৫৮.০২ টাকা)। বিনিয়োগ গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় হ্রাস এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্লেসমেন্ট কমে যাওয়াই এর মূল কারণ বলে জানানো হয়েছে।
এজিএম ও রেকর্ড ডেট:
লভ্যাংশ ঘোষণা না করলেও আগামী ২৫ জুন, ২০২৬ সকাল ১০টায় ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সভার স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে। এই এজিএমে অংশগ্রহণের জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ মে, ২০২৬।
উল্লেখ্য ব্যাংকটি পরপর দুই বছর লভ্যাংশ না দেয়াতে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে,যা বিনিয়োগকারীদের জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে গেল।