অর্থ লিপি

১ মে ২০২৬ শুক্রবার ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্যবসায়ীরা ২২ লাখ টন পেঁয়াজ আনার অনুমতি নিয়ে এনেছে মাত্র সাত লাখ টন

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

ভারত সরকার বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করছে—এমন খবরে দেশের বৃহত্তর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কেজিতে কমেছিল ২০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু তিন দিনের ব্যবধানে গতকাল শনিবার (২৪শে ফেব্রুয়ারি) মসলা পণ্যটি আগের দামেই ফিরে এসেছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা ভারতের বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আনার জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুললেও পণ্যটি এনেছেন এক-তৃতীয়াংশেরও কম। এখন ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকটের অজুহাতে উল্টো পেঁয়াজের দাম কেজিতে বাড়িয়েছেন ৩০ টাকা পর্যন্ত।

ভারত তাদের নিজেদের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৩ সালের ৭ই ডিসেম্বর ঘোষণা দেয়, ৮ই ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে। এরপর ৮ই ডিসেম্বরই বাংলাদেশের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এরপর দেশের মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও চোরাইপথে আসা ভারতীয় পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের আড়তে এলে এটির দাম কমে অর্ধেকে নেমে আসে।

আরও পড়ুন…

বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারত

আড়াই মাস পর গত ২০শে ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার বাংলাদেশকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত জানালে এদিন (২০শে ফেব্রুয়ারি) খাতুনগঞ্জের আড়তে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা কেজি।

আর ভারতীয় পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১০০ টাকা কেজি। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি পণ্যটির দাম বাড়তে থাকে। ওই দিন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি।

আরও পড়ুন…

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ : অ্যানা বেজার্ড

গতকাল বিকেলে পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ ৯৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। তিন দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ শাখার উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ২০২৩ সালের ১লা জুন থেকে ২০২৪ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে প্রায় ২২ লাখ টন পেঁয়াজ আনার জন্য আমদানির অনুমতি নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দেশে পেঁয়াজ এসেছে সাত লাখ টন।

অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া গত এক মাসে কোনো আমদানিকারক পেঁয়াজের আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) নেননি। তবে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির খবরে বৃহস্পতিবার কয়েকজন আমদানি অনুমতির জন্য এসেছিলেন। অনেকেই আগের আইপির মেয়াদ বাড়াতেও আসেন।

আরও পড়ুন…

দাম বাড়িয়ে প্রত্যাহার করলেও বাড়তি বাজারে

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আমদানিকারকরা ভারতের বিকল্প দেশ মিয়ানমার, মিসর, চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আনেন। এবার আমদানিকারকরা দেশি ও চোরাইপথে ভারত থেকে আসা পেঁয়াজ বাজারে আসায় বিকল্প দেশ থেকে আমদানি অনুমতি নিয়েও পণ্যটি আনেননি। এ ছাড়া আগে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি হতো। কিন্তু দেশটিতে জান্তা সরকার ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহী জোটের সংঘাতের কারণে আমদানিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে এখন বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই দাম বাড়ছে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।