বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও সতর্কতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বেশ কিছু কোম্পানিকে নতুন করে‘ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা‘ভুক্ত করার গুঞ্জন ও আতঙ্কের জেরে আজ বাজারে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে বিক্রির চাপ এতটাই বেশি ছিল যে, বহুদিন পর আজ এমন একটি কার্যদিবস পার হলো যেখানে কোনো কোম্পানিই সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে ‘হ্যাং‘ বা হল্টেড হতে পারেনি।
সূচকের পতন, ব্যতিক্রম কেবল ডিএস-৩০
আজকের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক DSEX পতনের সম্মুখীনহয়েছে। তবে তুলনামূলক বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কিছু ক্রয়ের চাপ থাকায় ব্লু–চিপ সূচকটি সামান্য ইতিবাচক ছিল।
আজ আগের দিনের চেয়ে ২১.৪৮পয়েন্ট (-০.৩৭%) কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬৩৯.৮৯৩ পয়েন্টে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুনের কার্যদিবসে সূচকটি ছিল ৫৬৬১.৩৮৩২৮।
আজ শরিয়াহ সূচকও নিম্নমুখী প্রবণতায় শেষ হয়েছে। সূচকটি ১.8১৬২৫ পয়েন্ট (-০.১৫৭৮৭%) কমে অবস্থান করছে ১১৪৮.৬৫ পয়েন্টে।
আজ সাধারণ সূচক কমলেও ডিএসই ৩০ সূচকটি আজ সামান্য বেড়েছে। ২.৪১ পয়েন্ট (+০.১১২৬৭%) বৃদ্ধি পেয়ে এটি দাঁড়িয়েছে ২১৪৫.৫৩৫১২ পয়েন্টে।
লেনদেনের খরা ও বাজার চিত্র
আতঙ্কের কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশকে আজ সাইডলাইনে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে, যার প্রভাব পরেছে সামগ্রিক লেনদেনে।
আগের কার্যদিবসের (১৮ জুন) ১,১৯৭.২১ কোটি টাকার তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা। আজ লেনদেন হয়েছে ১,০০২.৪৩ কোটি টাকা।
আজ ডিএসইতে বাজার চিত্র ছিল নিম্নরূপ:
মোট ট্রেড: ২৫১,৯৩৯ টি, মোট ভলিউম (শেয়ার সংখ্যা) ৩২,৮৫,৯২,১২০ টি এবং মোট লেনদেন ১,০০২.৪৩ কোটি টাকা।
আজ বাজারে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে সিংহভাগেরই দরপতন ঘটেছে। আজ দর বেড়েছে (Advanced) মাত্র ৭১টি কোম্পানির, দর কমেছে (Declined) ২৯৮টি কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে (Unchanged) ২৭টি কোম্পানির শেয়ার।
আজ ক্রেতার অভাবে কোনো শেয়ার সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করতে না পারলেও সর্বোচ্চদর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল যথাক্রমে— ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড(1STPRIMFMF) ৭.৬২% (LTP: ২২.৬), সিমটেক্স ৫.৭% (LTP: ২৭.৮), কেডিএস লিমিটেড ৪.৬৫% (LTP: ৫১.৮), আইসিবি অগ্রণী ১ মিউচুয়াল ফান্ড ৪.২৯% (LTP: ৭.৩) এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB) ৪.০৩% (LTP: ১২.৯)।
অন্যদিকে, তীব্র বিক্রির চাপে সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি এসে শীর্ষ লুজারের তালিকায় নাম লিখিয়েছে— মেঘনা পেট –৯.৮৮% (LTP: ৬৬.৬), বেক্সিমকো–৯.৮৭% (LTP: ৪২.৯), রিজেন্ট টেক্সটাইল –৯.৬৮% (LTP: ৫.৬), তুংহাই –৯.৩৭% (LTP: ২.৯) এবং উসমানিয়া গ্লাস –৯.৩৪% (LTP: ৩৯.৮)।
আজকের বাজারে ভলিউমের দিক থেকে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ওলেনদেন দেখা গেছে এনসিসি ব্যাংক (১.৩৬ কোটি শেয়ার), আইপিডিসি (১.২ কোটি শেয়ার), রবি (৮৩,১৮,৪৮৮ টি শেয়ার), বিডি থাই (৭৭,৭৮,৯৯৮ টি শেয়ার) এবং এসএপোর্টাল (৭১,৪৮,০৯৯ টি শেয়ার) এর ওপর।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকায় নতুন করে কোনো কড়াকড়ি বা বড় পরিবর্তনের আশঙ্কায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পোর্টফোলিও খালি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্যানিক সেলের কারণে ২৯৮টি কোম্পানির দরপতন হলেও উপযুক্ত ক্রেতার অভাবে আজ কোনো কোম্পানিই ঊর্ধ্বমুখী সার্কিট স্পর্শ করতে সক্ষম হয়নি। আগামী কার্যদিবস গুলোতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট বার্তা না আসা পর্যন্ত বাজারে এই সতর্কতা বজায় থাকতে পারে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।