ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় যুদ্ধবিমান দিয়ে সহায়তায় একটি ‘আন্তর্জাতিক জোট’ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডস। রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল উন্নত যুদ্ধবিমান। এরই অংশ হিসেবেই জোট গড়ে তোলার পক্ষে সম্মত হয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার আইসল্যান্ডে কাউন্সিল অব ইউরোপ সামিটের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, ‘ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দিয়ে সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রুট্টে’র সঙ্গে কাজ করবেন সুনাক। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ‘এফ-১৬’ বিমান কেনা পর্যন্ত করণীয় সবকিছুই করা হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নেতারা ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানের গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। যেন ভবিষ্যতে হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
এর আগে স্লোভাকিয়া ইউক্রেনকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান দেয়। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ডও মিগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায়। তবে ইউক্রেনের মাটিতে রুশ বাহিনীকে পরাস্ত করতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান চেয়ে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসলেও এখনও তেমন প্রতিশ্রুতি পাননি জেলেনস্কি। এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনও জানিয়েছিলেন, কিয়েভকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার আপাতত পরিকল্পনা নেই তার প্রশাসনের।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে মার্কিন নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। এতে যুদ্ধক্ষেত্র আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রুটে মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বলেন, ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলার বিষয়ে আমি এবং সুনাক একসঙ্গে কাজ করছি।
গত সোমবার ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্যারিসে গিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউক্রেনীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য ফ্রান্সের দরজা উন্মুক্ত। তবে তার দেশ ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
সূত্র: আল জাজিরা