রাইট শেয়ার এক ধরনের অধিকারমূলক শেয়ার। কোম্পানি যখন তার মূলধন বাড়াতে চায় তখন সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমতি নিয়ে বাজারে যে শেয়ার ছাড়ে তাকেই রাইট শেয়ার বলে। এ শেয়ার সবাই কিনতে পারেন না। কোম্পানি গঠনের পরবর্তী সময়ে শেয়ার বিক্রি করার ক্ষেত্রে পুরাতন শেয়ার মালিকরাই ওই শেয়ার ক্রয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।
যেসব শেয়ারহোল্ডার আগেই ওই কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন তারাই শুধু রাইট শেয়ার কিনতে পারেন। শেয়ার হোল্ডারদের কাছে এই শেয়ার অনেক মূল্যবান। কারণ বাজারের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে এই শেয়ারের দাম অনেক কম থাকে।
ইস্যুয়ার কোম্পানিকে রাইট শেয়ার অফারের জন্য সাধারণ সভায় রাইট শেয়ার ও এর মূল্য শেয়ার হোল্ডারদের দ্বারা অনুমোদন নিতে হবে। পূর্বের আইপিও বা রাইট শেয়ার থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুরোপুরি ব্যবহার সম্পন্ন করা না হলে তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পর এই আবেদন করতে হবে।
একটি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে Initial Public Offering (IPO) এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহ করে লিস্টেড হওয়ার পরও তার পুনরায় পুঁজি সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে। আর এই প্রয়োজনীয় পুঁজি সে কোম্পানির বর্তমান শেয়াহোল্ডারদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেই ক্যাপিটাল রেইজিং এর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে রাইট শেয়ার এর প্রচলন শুরু হয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (রাইট ইস্যু) রুলস, ২০০৬ (আপডেটেড ২০২১) অনুযায়ী লিস্টেড কোম্পানিগুলো রাইট শেয়ার অফারের আবেদন করে থাকে।
ইস্যুয়ার কোম্পানিকে নিয়মিত বার্ষিক সভা করা, ইন্টারন্যশনাল একাউন্টিং স্টেন্ডার্ড অনুযায়ী কোম্পানির আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করাসহ কোম্পানির সর্বশেষ অর্থবছরের লাভজনকতা নিশ্চিত করতে হবে। ইস্যুয়ার কোম্পানি বা এর কোন পরিচালক ঋণ খেলাপি যাতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পূর্বেই গ্রহন করতে হবে।
কোম্পানির রাইট অফার আবেদনের সাথে আর্থিক বিবরণীর সময় শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিএসইসি’তে জমা দিতে হয়। রাইট শেয়ারের পুরো এমাউন্ট অবলেখক কর্তৃক অবলেখন করতে হবে ।
ইস্যু ম্যানেজার কোম্পানির পরামর্শক্রমে ইস্যুয়ার কোম্পানি রাইট শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করবে। তবে শেষ তিন বছর লাভজনক ভাবে কোম্পানি পরিচালিত নাহলে ফেস ভ্যালু থেকে অধিক মূল্যে শেয়ার ইস্যু করা যাবেনা। এছাড়াও প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে পাঁচটির বেশি রাইট শেয়ার অফার করা যাবেনা।
প্রিমিয়ামে রাইট শেয়ার ইস্যু করতে হলে ক্রেডিট রেটিং করাতে হবে। অধিক মূল্যে রাইট শেয়ার ইস্যু করতে হলে প্রিমিয়ামের ন্যায্যতা প্রমাণে নেট অ্যাসেট ভ্যালু পার শেয়ার, আর্নিং বেসড ভ্যালু পার শেয়ার এবং ইস্যুয়ার কোম্পানির সর্বশেষ ৬ মাসের গড় বাজার মূল্য হিসাব করে যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে।
মনে রাখতে হবে, পরিচালকগণের এবং ৫% ও এর বেশি শেয়ারধারণকারীদের এবং তাদের থেকে রিনানসিয়েশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত রাইট শেয়ারধারণকারীদের শেয়ার রাইট শেয়ার সাবস্ক্রিপশান ক্লোজিং ডেট থেকে তিন বছরের জন্য লক ইন থাকবে।
এপ্রুভাল ফি হিসেবে মোট রাইট অফারের (প্রিমিয়ামসহ) ০.১৫% বিএসইসি’র অনুকূলে পে-অর্ডার বা ড্রাফট এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
কোম্পানির রাইট অফারের কারণ, পরিমাণ, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়, ডিভিডেন্ড প্রদানের ইতিহাস, পূর্বের উত্তোলিত অর্থের সঠিক ব্যবহারসহ কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দক্ষতা প্রভৃতি বিবেচনায় নিয়েই একটি রাইট অফার কর্তৃপক্ষের নিকট গুরুত্ব লাভ করে। অতএব কোম্পানিকে অভিজ্ঞ ও সুদক্ষ ইস্যু ম্যানেজার, বিএসইসি ঘোষিত অডিটর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়েই রাইট শেয়ার অফারের প্রস্তুতি নিতে হবে।