রোগ মুক্তির শ্রেষ্ঠ মেডিসিন ফাস্টিং : ৭ম পর্ব
ধাপে ধাপে ফাস্টিং
হুটহাট করে লম্বা সময় ফাস্টিং করতে যাওয়া ঠিক হবে না। এতে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্টেপ বাই স্টেপ এক্সটেন্ডেড ফাস্টিং এ যেতে হবে।
১ম ধাপ : স্ন্যাকস পরিহার
ফাস্টিং শুরুর আগে ২–১ সপ্তাহ সকল স্ন্যাকস পরিহার করুন। অর্থাৎ ৩ বেলা আহার – ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার এর বাইরে কোন কিছু খাওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট আহারের বাইরে দুধ–চিনির চা–কফি, সফট ড্রিংকস, জুস, বিস্কুট, কেক, আইসক্রিম, সিঙ্গারা, সমুচা ইত্যাদি পরিহার করার অভ্যাস গড়ুন। এভাবে খেলে আপনার সুগার ও কার্বোহাইড্রেট আসক্তি অনেকাংশে কমে আসবে। এতে অভ্যস্ত হলে আপনার শরীর ফাস্টিং এর জন্য অনেকটাই প্রস্তুত হয়ে যাবে।
২য় ধাপ : ফিডিং জোন ও ফাস্টিং জোন
এই ধাপে আপনাকে দিনের ২৪ ঘন্টাকে দুটো জোনে ভাগ করতে হবে – ফিডিং জোন ওফাস্টিং জোন। দিনের সকল আহারকে ফিডিং জোনে রাখতে হবে এবং ফাস্টিং জোনে পানিছাড়া আর কিছু খেতে পারবেন না। আপনার সুবিধা অনুযায়ী ফিডিং জোন ঠিক করে নিন। সেটা নিম্নোক্ত উপায়ে হতে পারে :
ফিডিং জোন : ১২ ঘন্টা
ব্রেকফাস্ট – সকাল ৮ টা, লাঞ্চ – বেলা ২ টা, ডিনার – রাত ৮ টা।
ফাস্টিং জোন : ১২ ঘন্টা
রাত ৮ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত পানি ছাড়া সকল পানাহার বন্ধ রাখুন।
এভাবে ২–১ সপ্তাহ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। এই ধাপে আপনার প্রায় ১২ ঘন্টা ফাস্টিং হয়ে যাবে। এতে সুগার আসক্তি কমবে এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা কমে আসবে।
৩য় ধাপ : ফিডিং পিরিয়ড সংকোচন
এই ধাপে ফিডিং পিরিয়ডকে সংকোচন করতে হবে। যেমন ১২ ঘন্টা থেকে ১০ ঘন্টায় কমিয়ে আনুন। এই ধরুন সকাল ৯ টায় নাস্তা, দুপুর ২ টায় লাঞ্চ ও সন্ধ্যা ৭ টায় ডিনার। এতে আপনার ১৪ ঘন্টা ফাস্টিং হল এবং দেহ দীর্ঘ মেয়াদি ফাস্টিং এর জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।
৪র্থ ধাপ : ব্রেকফাস্ট পরিহার
হঠাৎ একদিন ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তা বাদ দিয়ে দিন। ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে ২–১ ঘন্টাএকটু ক্ষুধা লাগতে পারে, কিন্তু তা কষ্ট করে ইগনোর করুন। দেখবেন কিছুক্ষণ পরে ক্ষুধা কমে গেছে। আপনি পানি, গ্রিন টি পান করতে পারেন – সমস্যা নেই। আপনি যদি বেলা ৩টায় লাঞ্চ করেন তবে ২০ ঘন্টা ফাস্টিং হয়ে গেল। সপ্তাহে ২ দিন ২০ ঘন্টা ফাস্টিং করলে ধীরে ধীরে শরীর এডজাস্ট করে ফেলবে এবং ক্ষুধা ও কষ্ট ব্যাপক ভাবে কমে যাবে।
৫ম ধাপ : ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ পরিহার
ধরুন, একবার রাত ৮ টায় ডিনার সারলেন এবং পরের দিন ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ পরিত্যাগ করলেন। আবার রাত ৮ টায় ডিনার করলেন। আপনার ২৪ ঘন্টা ফাস্টিং হয়ে গেল। সপ্তাহে২ দিন (যেমন – সোমবার ও বৃহস্পতিবার) করলে ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যাবে। যারা মুসলিম তারা সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার নিয়ত করুন, সুন্নাত আদায় হলো ফাস্টিং ওহলো।
৬ষ্ঠ ধাপ : ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার পরিত্যাগ
এটা সকলের প্রয়োজন নেই। যাদের ৩০–৫০ কেজি ওজন কমাতে হবে তাদের দীর্ঘমেয়াদি (extended) ফাস্টিং প্রয়োজন( ফাস্টিং এর মাঝে শুধু পানি খাবেন) তারা ৩৬ ঘন্টা কিম্বা ৪৮ ঘন্টা ও ৭২ ঘন্টা ফাস্টিং করতে পারেন। এতে ভয়ের কিছু নেই।