একবার এক লোক খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে বহুতল ভবনে নতুন আবাসিক হোটেল ব্যবসা শুরু করেছিল। কিন্তু হোটেল চালুর প্রথম দিনই হোটেলের মালিক নিজেই পুলিশ ডেকে হোটেলের দেহ ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিলেন।
পত্রিকায় এই নিয়ে বড় রিপোর্ট হলো এবং এতে হোটেল মালিকও অনেক খুশি হলো, কারণ তার নতুন হোটেলে আসলে কি হয়, তা জনগণকে জানানো হয়ে গেছে।
এতে করে হোটেল মালিকের পরে আর কষ্ট করে কাস্টমার খুঁজতে হবে না। তেমনি আমাদের দেশের কিছু অনলাইন পত্রিকায় কিছু শেয়ারের নামে ইচ্ছাকৃত ভাবে খারাপ নিউজ করে মামাদেরকে শেয়ারগুলো হাতিয়ে নিতে সাহায্য করে এবং শেয়ার হাতানোর পরে আবার ওই পত্রিকাগুলোই ওইসব কোম্পানির নামে আবার পজিটিভ নিউজ করে।
সুতরাং আমাদের দেশের আবাসিক হোটেল মালিকের মতো কে কি করে এবং কেন করে, তা আগে বুঝতে হবে। শুধু পত্রিকার নিউজের উপর নির্ভর করে শেয়ার ব্যবসা করতে চাইলে এ ব্যবসা আপনার জন্য নয়।
একবার একটি পত্রিকা একটি সিরামিক কোম্পানির নামে রিপোর্ট করেছিল যে, সিরামিক কারখানা থেকে বিষাক্ত দূষিত পদার্থ নদীতে গিয়ে পড়ে। দূষিত পদার্থ নদীতে যওয়ার কারণে নদীর মাছ মরে যায় এবং মানুষ নদীতে গোসল করলে মানুষের গায়ে ফোসকা ফুটে।
সিরামিক কোম্পানি পরে পত্রিকার রিপোর্টারকে ডেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরে নদীর পানি দূষণ, মানুষের গায়ে ফোসকা ফোটা, এবং মাছ মরা, সব বন্ধ হয়ে গেল। অধিকাংশ সাংবাদিক ভালো হলেও অল্প কিছু সাংবাদিক আছে, যারা হয় টাকা খেয়ে সংবাদ পরিবেশন করে অথবা টাকা খাওয়ার জন্য সংবাদ পরিবেশন করে।
এই গুটিকয় সাংবাদিকের জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজ কলঙ্কিত হয়। শেয়ার বাজার যেহেতু স্পর্শকাতর জায়গা, তাই আশা করি সাংবাদিক ভাইয়েরা শেয়ারবাজার সম্পর্কিত প্রতিটি খবর কোন মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে সঠিকভাবে প্রচার করবেন। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে একটি কোম্পানি নিয়ে তিন-চার রকমের খবর বিনিয়োগকারীরা দেখতে চায় না।