বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের স্টাইলক্রাফট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩রা আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের গাজীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার জানান, চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্টাইলক্রাফট পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গত দুই দিন ধরে কারখানায় বিক্ষোভ করেছেন।

আজ সকাল থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ডিসির প্রতিনিধি এনডিসি মোস্তফা আব্দুল্লাহ নুর এবং সহকারী কমিশনার ও সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব শাত ইল ইভান শ্রমিকদের কাছে ছুটে আসেন। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
উভয়ে শ্রমিকদের জানান, সমস্যাটি সমাধান করার জন্য আজ বিকালে জেলা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষ উপস্থিত থাকবে। সভায় সমস্যার সমাধান করা হবে।
এ সময় কয়েকজন শ্রমিক জানান, আগেও এ ধরনের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এ সময় ওই দুই কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেন, আগের মতো আর হবে না। আজকের সভার মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হবে উল্লেখ করে অপেক্ষা করতে বলেন।
এ ছাড়া মঙ্গল ও বুধবার একই বিষয়ে ঢাকা-জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
স্টাইলক্রাফট পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস আলমাস বলেন, তারা আমার গার্মেন্টসের শ্রমিক। আমিও শ্রমিক। তারা আমার পরিবারের সদস্য। আমার এই পোশাক কারখানায় বেতন ভাতা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। আমি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক দুরবস্থায় কিছুটা সমস্যা হয়েই যায়। যতটুকু সমস্যা, তার বেশি সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাজগুলো করছে বহিরাগতরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, স্টাইলক্রাফট পোশাক কারখানার মালিক কয়েক মাস পরপরই বেতন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেন। এখানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
শ্রমিকরা জানান, মালিকপক্ষের কাছে জুন ও জুলাই মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পাওনা রয়েছেন। এসব বকেয়া নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বেতন বকেয়া থাকলে বাসা ভাড়া দেওয়া সম্ভব না। সংসারও চলে না।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরে শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানার মালিকের সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১ আগস্ট বকেয়া বেতন ও ৮ আগস্ট শ্রমিকদের ঈদের বোনাস দেওয়ার কথা।