অর্থ লিপি

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সরবরাহ বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমেছে

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

সম্প্রতি ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনায় দেশের বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছিল। এতে রাজধানী ঢাকার বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়ে দাম বেড়ে যায়। তিন দিন আগে রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল হতে শুরু করে। এতে রাজধানীর বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। ফলে অস্থির বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে জানায় সাধারণ ভোক্তারা। তবে এখনো দাম  আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি।

আজ শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরের ছোট বড় মিলিয়ে ৫ টি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। বাজারে টমেটো, বেগুন,  ও করলা ছাড়া এখন বেশির ভাগ সবজি মানভেধে  ৪০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনতে পারছে ভোক্তারা। যদিও আন্দোলনের সময় দুই তিনটি বাদে ৮০ থেকে ৯০ টাকার নিচে খুব কম সবজিই পাওয়া যেত।

বাজারে প্রতি কেজি ভালো মানের বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অনেক বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, দাম কমে এখন ২০০ টাকায় নেমেছে। প্রতি কেজি করলা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় , দাম কমে আজ কেজি ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়।

আজ দাম কমে প্রতি কেজি পটোল ৪০ থেকে ৬০ টাকায়, চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়স কেজি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়, পেঁপে কেজি ৪০ থেকে ৬০  টাকায়, চাল কুমড়া ও লাউ প্রতি পিস আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, শসা কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায়, কচুমুখি কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকায়, টমেটো কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর ১১ বাজারের সবজি বিক্রেতা আকতার মিয়া জানান, ‘বাজারে এখন পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ রয়েছে। ফলে টমেটো ছাড়া সব ধরনের সবজির দাম কমে গেছে। টমেটো ভারত থেকেই বাড়তি দামে আমদানি করতে হচ্ছে, যার ফলে বাজারে টমেটোর দাম কমছে না, কমার কোন লক্ষন ও দেখছেন না বলে জানালেন তিনি।

মিরপুর ৬ কাঁচাবাজারে কথা হয় একজন ক্রেতার সাথে, তিনি  বলেন, ‘চড়া দামের কারণে কিছুদিন আগে আমরা যারা  স্বল্প  আয়ের মানুষ সবজি কিনতে পারিনি। সেই তুলনায় এখন সবজির দাম অনেকটাই কমেছে। এতে সাধারণ মানুষ বাজারে এসে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। তবে সবজির মতো অন্যান্য পণ্যের দামও কমানো উচিত।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে মুরগির দাম। প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা কেজিতে। জানতে চাইলে কয়েকজন মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ‘মূলত বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে কিছুটা দাম বেড়েছিল, এখন সরবরাহ বাড়ায় মুরগির দাম কমে এসেছে।

মিরপুরের ১১ পাইকারি  বাজারে সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজ ও আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু খুচরা বাজারে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। খুচরায় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১০৫ থেকে ১২০ টাকায় এবং প্রতি কেজি আলু ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুরের ১১ বাজারের পাইকারি আলু বিক্রেতা বলেন, ‘বাজারে সরবরাহ বাড়ায় আলুর দাম কেজিতে তিন-চার টাকার মতো কমেছে। এখন পাইকারিতে ৫৭ থেকে ৫৮ টাকায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, দেশি রসুন কেজি ২২০ টাকায়, আমদানি করা রসুন কেজি ২০০ টাকায়, ছোট দানার মসুর ডাল কেজি ১৪০ টাকায় এবং বড় দানার মসুর ডাল কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা মধ্য বয়সী একজন ভদ্রলোক ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কমকে বলেন, ‘বাজারে আসলে অসহায় লাগে নিজেকে। এমন অস্বাভাবিক দাম হবার কারণে পরিবারের চাহিদামত বাজার করতে পারিনা, ছেলে মেয়েদের মুখের দিকে তাকাতেই দুশ্চিন্তায় ভরে যায় মন এমন আক্ষেপ কথা বলেছিলেন এরকম আরও বেশ কয়েক জন ক্রেতা ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম কে।

সার্বিকভাবে মিরপুরের ছোট বড় মিলিয়ে ৫ টি কাঁচাবাজার ঘুরে  বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম দেখে যা মনে হলো, এখন ক্রেতাদের উচিত প্রতিটি পণ্যের দাম যাছাই বাছাই করে ক্রয় করা, কেননা একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দোকানে এক এক দাম। ক্রেতারা যাছাই বাছাই করে কিনলে  কিছুটা কম দামে ক্রয় করতে পারবেন। বিক্রেতারা বেশি বেশি দাম চাচ্ছে একেক দোকানে এক এক দাম। সমাজের ছোট থেকে বড় সব ব্যবসায়ীরাই জিম্মি করে রাখছে ক্রেতাদের।

সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সরকারের উচিত সঠিক ভাবে বাজার তদারকি করা। নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম লাগামহীন কয়েক দফা দাম বাড়ার কারণে মানুষ ভয়াবহ চাপে আছে। তাই সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবে বাজার তদারকি করা, যা তাদের একান্ত দায়িত্বও বটে।

দুখঃজনক হলেও সত্য গত এক বছরের মতো আর কখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের জন্যে মানুষদের এত অসহায় হতে দেখা যায়নি।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।