আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূলধনি মুনাফার ওপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি চায় পুঁজিবাজারের অংশীজনরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে গতকাল প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এ প্রস্তাব দিয়েছে।
তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ লেনদেন থেকে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি কর্তৃক মূলধনি মুনাফার ওপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি চায় ডিএসই। পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের কাছ থেকে উৎসে কর সংগ্রহের হার হ্রাস, উৎসে লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর হ্রাস এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসাবে বিবেচনা করা, তালিকাভুক্ত বন্ড থেকে অর্জিত আয় বা সুদের ওপর কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়। ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সিএসইর প্রস্তাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হ্রাস, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ স্থাপনের জন্য পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ প্রদান, লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার, করপোরেট করহারের পুনর্বিন্যাস, একক লেনদেন ও নির্ধারিত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগে সীমা পুনর্নির্ধারণ, এসএমই ও অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের (এটিবি) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কর সুবিধার প্রস্তাব করা হয়।
সিএসইর অন্যান্য বাজেট প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত বার্ষিক মোট নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগের সীমা ৩৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে মোট বার্ষিক লেনদেনের ১০ শতাংশ করা, এসএমই ও এটিবির তালিকাভুক্ত এসএমই কোম্পানিগুলোর জন্য তালিকাভুক্তির প্রথম তিন বছর শূন্য করহার, জিরো কুপন বন্ডের অন্যান্য বন্ড যেমন করপোরেট বন্ড, সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে উদ্ভূত আয়কে কর অব্যাহতি প্রদান করা, স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের কাছ থেকে উৎসে আয়কর কর্তনের হার আগের মতো দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা।
এছাড়া বন্ড লেনদেনের ওপর কর প্রত্যাহার করা, ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা, সিএসইর পরামর্শ সেবা, কারিগরি সেবা ও সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্স ফির ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ হারে উৎসে করের পরিবর্তন ও আমদানীকৃত সেবার ওপর প্রযোজ্য বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) কমানো এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ কর্তৃক ইস্যুকৃত ইউনিট সার্টিফিকেট ও মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বোচ্চ সীমা ৫ লাখ থেকে উঠিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেছে সিএসই।
এছাড়া মূলধনি আয়ের ওপর করহার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করাসহ বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ। আর মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট করহার ২৫ শতাংশ করা, স্টক লভ্যাংশের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাটের হার কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএমবিএ।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।