দেশের সব শহরে বিশেষ করে ঢাকা শহরে দিন দিন বেড়েই চলছে হিজড়াদের উৎপাত। এদের বেপরোয়া আচরণে ননগরবাসী ভীত, আতঙ্কিত ও অসহায় হয়ে পড়েছে দিনকে দিন ।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য ইদানীং কিছু পথভ্রষ্ট পুরুষ ও নারী সেচ্ছায় হিজড়া হচ্ছে ,যা আরও আতঙ্কের খবর। জানা গেছে এরা হিজড়া হওয়ার মূল কারণ সহজে চাঁদাবাজি করা যায়, কষ্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করা যায়। আর এই পুরুষ ও নারী সেচ্ছায় হিজড়াতে রুপান্তর করছে একটা ভয়ানক চক্র।
এই তো গত শনিবার রাতে রাজধানীর রমনার পরিবাগ এলাকায় হিজড়াদের হামলায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. মোজাহিদ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রমনা থানার এসআই মোজাহিদ সহ পুলিশের একটি দল রাতে পরিবাগ এলাকায় ডিউটি করছিলেন। এ সময় ওই এলাকায় হিজড়াদের একটি দল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হিজড়ারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে একটি ইট এসআই মোজাহিদের চোখে এসে লাগে। এতে এসআই মোজাহিদের একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
সাধারণত হিজড়া লোকজন দিনের বেলা বিভিন্ন বাস,ট্রেন, লঞ্চ স্টেশনে, দোকানপাট, ফুটপাত, মার্কেট, বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও মানুষের বাসায় জোর করে ঢুকে তাদের ভয় ভীতি দেখিয়ে, বিভিন্ন কায়দায় জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা এখন তাদের কাছে ডাল ভাত খাওয়ার মতই নরমাল বেপার। এর সাথে তাদের আগের সব কীর্তি কলাপ যেমন রাতে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসায় তো আছেই।
ইদানীং হিজড়াদের ক্ষমতা প্রদর্শনের স্টাইল আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার উপর বিশাল ঝুঁকির সম্ভাবনাকে আরও সামনে এনেছে। কেউ তাদের দাবি কৃত টাকা দিতে অসম্মতি জানালে বা তাদের কাজে বাধা দিতে চেষ্টা করলে ট্রাক ভর্তি লোকজন নিয়ে হামলা করার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
এইতো কিছুদিন আগের কথা। মিরপুরের ১১ নম্বরের একটি বাসায় হঠাত্ একদল হিজড়াঢুকে চিত্কার চেচামেচি ও নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ কথা বার্তা বলে চারদিকে উত্তেজনা তৈরিক রে একটি বাড়ির মানুষকে আতঙ্কিত করতে আরম্ভ করল। আর সঙ্গে চলল তাদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। তাদের এই পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনাটি ছিল ওই বাসা আলোকিত করে সবে মাত্র জন্ম নেয়া একটি ছোট্ট শিশু। তিনদিন আগে জন্ম নেয়া এই শিশু মিরপুর ১১ নম্বরের ডেলটা হাসপাতাল থেকে দুপুরের দিকে বাসায় আনা হয়েছে। তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে নাহলে তারা বাচ্চাটিকে নিয়ে চলে যাবে। এবং হিজড়ারা জোর করে বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিয়ে যেতে উদ্যত হয়। তাদের হাতে পায়ে ধরে ১০ হাজার টাকা দিয়ে কোনও মত বিদায় করলেও ঘটনাটি মনে হলে শিশুটির বাবার এখনো গা শিউরে উঠে।
এই ঘটনাটি এখন নিয়মিত। সরকার, পুলিশ, প্রশাসন সবাই সব জানে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কোনও পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি। আমরা জানিনা বেপরোয়া এই হিজড়াদের ক্ষমতা কোথায় গিয়ে শেষ হবে।
দেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে এদের কোন নির্দিষ্ট এলাকাতে আশ্রিত করা উচিত জনগণের স্বার্থে। পাশাপাশি যাতে হিজড়ারা কোন ভাবেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করতে পারে সেদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকদের কড়া নজর রাখতে হবে।