আজ বুধবার (১৬ ই আগস্ট) উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের পতনে আজকের বাজার শেষ হয়েছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল সূচক ও লেনদেন গত দিনেরচেয়ে উভয়ই কমেছে। আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫১.৫৩ কোটি টাকার শেয়ার। যা গতদিন ছিল ৪১৩.৭৫ কোটি টাকার শেয়ার। আজ ডিএসইতে গত দিনের চেয়ে ৬২.২২ কোটি টাকার কম শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনে আজ মূল সূচক ডিএসইএক্স সূচক ৩৬.৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে৬২২০.৮০ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৭.৩২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে১৩৫০.৬২ পয়েন্টে। ডিএস ৩০ সূচক ১৫.৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১০৮.৬৫ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩০১ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১৬ টির, দাম কমেছে ১৪৬ টির এবং দাম অপরিবর্তিত ছিল ১৩৯ টির।

আজকে ডিএসইর দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ২০ তালিকায় ছিল যে সব কোম্পানি
অপরদিকে দেশের ২য় শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন গতদিনের চেয়ে কমেছে। আজ সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৭.৩৬ পয়েন্ট কমেসূচক অবস্থান করছে ১৮৪৩৫.৯৮ পয়েন্টে।
আজ সিএসইতে মোট ১১.৯২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গতকাল ছিল১২.২৯ কোটি টাকা। আজ সিএসইতে গত দিনের চেয়ে ৩৭ লাখ টাকার কম শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে।

আজ সিএসই তে মোট ১৫৯ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে।এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১১ টির, কমেছে ৭৫ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭৩ টিকোম্পানির ।

আজকে সিএসইর দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ তালিকায় ছিল যে সব কোম্পানি ।
আজ উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই লেনদেনের শুরু থেকেই বাজার নেতিবাচক ছিল যা শেষ পর্যন্ত পতন অব্যাহত ছিল।
বেশ কিছু হাউজে ঘুরে হাউজের অফিসারদের অলস সময় পার করতে দেখা গেল। একজন বিনিয়োগকারী আক্ষেপের সাথে বললেন, এমন বাজার চলছে যে বাজারে টপ ২০ গেইনিং তালিকাও পূরণ হচ্ছেনা।
শেয়ারবাজার নিয়ে হতাশা ভর করেছে ,টপ ২০ তালিকাও পূরণ হচ্ছেনা !
শেয়ারবাজার নিয়ে হতাশা ভর করেছে বিনিয়োগকারীদের মনে। এতে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর মধ্যেই এখন শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেড়ে গেছে। এ কারণে বাজারে একদিকে কমছে লেনদেন, অন্যদিকে বিক্রির চাপে কমছে শেয়ারের দাম ও সূচক।
পরপর ২ দিন ধরে টপ ২০ গেইনিং তালিকাটি পূর্ণতা পাচ্ছেনা।
সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষস্থানীয় ২ টি ও মাঝারি মানের ৩ টি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ অফিসারদের সাথে কথা বল্লে কথার সারমর্ম অনেকটা একইরকম জানা গেল। তাদের ধারণা বিনিয়োগকারীদের মনে এখন চরম হতাশা ভর করেছে। ফলে সবাই গুজবে পেনিক হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন।
বিনিয়োগকারীরা কেন আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন জানতে চাইলে একাধিক শীর্ষ অফিসারগন জানান, বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশই ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে। সেসব শেয়ার লেনদেনের সুযোগ পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। তাই যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ফ্লোর প্রাইসের ওপরে আছে, সেগুলো বিক্রি করে দিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন তাঁরা। কারণ, এসব শেয়ারও ফ্লোর প্রাইসে আটকে গেলে তখন আর বিক্রি করতে পারবেন না, এমন আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের মধ্যে।তাই কোন শেয়ার ফ্লোরের কাছাকাছি আসলে বিক্রি চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
তারা আরও জানান বাজারে এই মুহুর্তে নতুন কোনো বিনিয়োগ নেই। আরও বেশি লোকসান হতে পারে, এ আশঙ্কায় যে যেখানে পারছেন শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। তারল্য সংকটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজারে নিষ্ক্রিয়। ফলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা বেশি বাজারে।
বাজার খারাপ থাকায় কেউ কেউ কিছু শেয়ার বিক্রি করে লোনের রেশিও কমিয়ে রাখছে যে কারনেও বিক্রি চাপ আছে।