দেশের শেয়ার বাজারে থাকা কোম্পানিগুলোর বারবার বিভিন্ন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ হবার আগেই বেরিয়ে পরছে, তথ্য চলে যাচ্ছে বাজার কারসাজি করা লোকদের কাছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এ থেকে কি পরিত্রানের কি উপায় নেই!
ইদানীং বিভিন্ন কোম্পানির পর্ষদ সভা হবার আগেই কিছু মহল জেনে যাচ্ছে পর্ষদ সভার কি ফলাফল আসবে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানির প্রাইজ সেনসেটিভ নিউজ (মূল্য সংবেদনশীল তথ্য) অনেক আগেই প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ লোকজনের ও অডিট ফার্মের লোকদের মাধ্যমে। এর সঙ্গে কোম্পানির পরিচালক, কর্মকর্তারাও জড়িত। তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে তথ্য প্রকাশ না করে, তারা নিজেরা ও এক শ্রেনির বড় বিনিয়োগকারীদের সাহায্যে শেয়ারের ক্রয়ের চাপে, দাম বাড়িয়ে তুলছেন।
এতে কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা ও কিছু ব্যাক্তি লাভবান হলেও লোকসান গুনছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। একটি কোম্পানির ভালো নিউজ আনুষ্ঠানিক ভাবে আসার আগেই, খবরটি একটি পক্ষ জেনে দাম বাড়িয়ে দেয়।
আনুষ্ঠানিক ভাবে ভালো নিউজ আসার পরে খবর দেখে, কিছু লোক তাতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। নিজেদের মত করে প্রাইজ সেনসেটিভ নিউজ প্রকাশ করায় বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীগন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এছাড়া খবর আসছে, গুজব ছড়িয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেন না অনেক কোম্পানি। অনেক ক্ষেত্রে দেরি করে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়। আবার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করার অনেক আগেই জানতে পারেন কিছু বিনিয়োগকারী। এসব ক্ষেত্রে কোম্পানির লোকজন এমনকি পরিচালকরাও জড়িত থাকেন বলে জানা যায়।
একটি কোম্পানির কি লভ্যাংশ বা ইপিএস আসবে এবং কোন উৎপাদন খবর, এগ্রিমেন্ট খবর সহ কোম্পানির বিভিন্ন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পর্ষদ সভা হবার আগেই লোকজন জেনে যাচ্ছে, যে কারণে একটি পক্ষ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমজনতা। যথাযথ কর্তৃপক্ষেরই এই বিষয়টি কড়া নজরদারিতে নেয়া জরুরী।
নিউজ গুলো ১/২মাস আগে থেকেই প্রচার পেতে থাকে মানুষের মুখে মুখে ও ফেইসবুকে। প্রশ্ন হলো কোথা থেকে এই খবর টি আগেই প্রকাশ পাচ্ছে?
বাজারে একটি প্রবাদ আছে Buy the Rumors, sale the News কিন্তু কথা হলো এই Rumors টা বের হয় কিভাবে। এটাকে রোধ করা জরুরী।
উন্নত দেশে দেখা যায় একটি কোম্পানির ভালো খবরে দাম বাড়ে আর আমাদের বাজারে ভালো খবরে দাম পরে যায়, ভাবা যায় বিষয়টি!
আজও ব্যতিক্রম হলোনা রুপালী ব্যাংকের বেলায়। অনেক ভালো ইপিএস আসবে গুজব ছিল বাজারে, সেই গুজব বাস্তবে পরিনত হলো। ব্যাংকটির গত প্রান্তিকে ৫ গুন মুনাফা বেড়েছে এবং ২ প্রান্তিক তথা গত ৬ মাসে আগের বছরের চেয়ে ১৮২ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে।
আজ ব্যাংকটির ৬ শতাংশ দাম পতন ঘটে মুনাফার ভালো খবর প্রকাশ হবার পরেও। ভাবা যায় ভালো সংবাদে শেয়ারের দামের পতন হচ্ছে!
যথাযথ কর্তৃপক্ষেরই এই বিষয়টি কড়া নজরদারিতে নেয়া জরুরী। বাজারে দাম বাড়ে কমে তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নেই, কিন্তু নিয়মকানুন এর তোয়াক্কা না করে যাতে ভবিষ্যতে কোন কোম্পানির এমন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বের হতে না পারে, সে ব্যাপারে আশু উদ্যোগ গ্রহণ যেন করে, এই দাবি সকল বিনিয়োগকারীদের।