অর্থ লিপি

১৪ মার্চ ২০২৬ শনিবার ১ চৈত্র ১৪৩২

ঋণখেলাপিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঋণদাতা ব্যাংকেই খুলতে হবে আয়ের হিসাব

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের বেসরকারি খাতের বড় প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগই হয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে। এখন খেলাপি ঋণের হার এসব ব্যাংকেই বেশি। আবার এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের বড় অংশ হচ্ছে প্রকল্প ঋণ। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্প করেছেন, সেটি সফলও হয়েছে। কিন্তু ১০/১২ বছর পেরিয়ে  গেলেও সেই ঋণ আর শোধ করেনি বহু ব্যবসায়ী। শুধু দফায় দফায় পুনঃ তফসিল করে ঋণ নিয়মিত রেখেছেন। এমন ব্যবসায়ীদের আটকাতে এবার নতুন নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ১৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে যে ব্যাংক কোনো প্রকল্পে ঋণ দেয়, সে ব্যাংকেই খুলতে হবে ওই ব্যবসার আয় বা বিক্রির হিসাব। তখন সে হিসাব থেকেই শোধ হবে কিস্তির টাকা। তাতে সময়মতোই প্রকল্পের ঋণ শোধ হয়ে যাবে। এর ফলে প্রকল্প ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। শুধু ব্যবসা খারাপ হলেই কেবল ঋণ খেলাপি হয়ে যাবে।

নতুন এ নির্দেশনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, ব্যাংক বিভিন্ন খাতে প্রকল্প স্থাপনের জন্য ঋণ প্রদানের পর ওই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত আয় দ্বারা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাতে একই ব্যাংকে এসক্রো হিসাব খোলা হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু কিছু ঋণগ্রহীতা যে ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ গ্রহণ করছেন, সে ব্যাংকে ওই প্রকল্পের আয় জমা করছেন না। ফলে একদিকে যেমন ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের ঋণ আদায়ে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃক যথাযথভাবে ঋণটি তদারকি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

নির্দেশনা টি দেখতে এখানে ক্লিক করুন bank account

এ জন্যই নতুন নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের আয় বা বিক্রির টাকা সংগ্রহ করার জন্য ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকে ওই প্রকল্পের নামে এসক্রো হিসাব বা যে নামেই হোক না কেন হিসাব খুলতে হবে। জোটবদ্ধ হয়ে অর্থায়ন করা হলে সেই প্রকল্পের আয় বা বিক্রির টাকা সংগ্রহ করার জন্যও লিড ব্যাংকে (ঋণ আয়োজনকারী) হিসাব খুলতে হবে। ঋণ প্রদানকারী ব্যাংককে ঋণ আদায় নিশ্চিত করার জন্য এই হিসাবে প্রকল্পের আয় বা বিক্রির টাকা নিয়মিত জমা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে হবে। প্রকল্পের আয় ঋণের বিপরীতে প্রদেয় কিস্তির তুলনায় বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ জমা করার জন্য লিড ব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ করে অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নামে হিসাব খোলা যাবে।

ব্যাংকাররা বলছেন, দেশের অনেক ব্যবসায়ীই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প করেছেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা সেই ঋণ আর পরিশোধ করেননি। অথচ এসব প্রকল্প খুব ভালো করেছে বা করছে। এসব ব্যবসায়ী যে ব্যাংক থেকে প্রকল্পের বিপরীতে ঋণ নিয়েছেন, সেটিতে ব্যবসার হিসাব না খুলে অন্য ব্যাংকে তা খুলে টাকা জমা করেছেন। সেই টাকায় এবং অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরে আরও প্রকল্প করেছেন। এভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছেন অনেকে। অথচ প্রকল্পের ঋণ এখনো বকেয়া রয়ে গেছে। এতে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

উল্লেখ্য খেলাপি ঋণ আদায়ে বেসরকারি উদ্যোগে ‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি’ গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে গত বুধবার ঘোষিত মুদ্রানীতিতে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদারে কার্যক্রম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

যে ব্যাংক থেকে প্রকল্পগুলোর জন্যে ঋণ নেয়, সে ব্যাংকেই খুলতে হবে ওই ব্যবসার আয় বা বিক্রির হিসাব,এই বিষয় টি সঠিকভাবে করতে পারলে ঋণখেলাপিদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, এর ফলে প্রকল্প ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বহুলাংশে ।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।