বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়, বরং শিরোপা ধরে রাখার পথে বড় এক সতর্কবার্তা। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে এমন এক লড়াই উপহার দিয়েছে, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শঙ্কায় রেখেছিল লিওনেল মেসিদের।
শুক্রবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। সেই চাপের ফল আসে ২৯তম মিনিটে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস ধরে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত সেভে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৯তম মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও ভোজিনিয়ার দৃঢ়তায় নির্ধারিত সময়ে আর গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এবার গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। কিন্তু কেপ ভার্দে যেন হার মানতেই মাঠে নামেনি। কিছুক্ষণ পর বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে কেটে ডান পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে সিডনি কাবরাল দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরান দলকে। তার গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার বলেই মনে করছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ১১১তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয় এবং শেষ ষোলোর টিকিট।
কেপ ভার্দের বিদায়, তবু মাথা উঁচু করে
হেরে গেলেও কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ১২০ মিনিট সমানতালে লড়ে তারা প্রমাণ করেছে, আধুনিক ফুটবলে ছোট দল বলে কিছু নেই। বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ নৈপুণ্য এবং পুরো দলের লড়াকু মানসিকতা ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
আর্জেন্টিনার জন্য সতর্কবার্তা
জয় পেলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা আবারও চোখে পড়েছে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে এমন ভুলের মূল্য আরও বেশি হতে পারে। তবে চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং ম্যাচ জয়ের মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে স্কালোনির দলের পক্ষে।
শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে আর্জেন্টিনা শিবিরে। অন্যদিকে বিদায় নিয়েও সম্মান আর প্রশংসা কুড়িয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চ ছাড়ে কেপ ভার্দে।
এখন শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।