অর্থ লিপি

২২ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার ৬ কার্তিক ১৪৩৩

জন্ম নিবন্ধনে জটিলতা: জন্ম নিবন্ধন করার চেয়ে সন্তান জন্ম দেয়া কম কষ্টের ও সহজ।

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দেশের সব বয়সি নাগরিকের জন্য জন্মনিবন্ধন প্রযোজ্য। জন্মসনদ হচ্ছে একজন মানুষের জন্ম, বয়স, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ। রাষ্ট্রস্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

২০০৪ সালে জন্মনিবন্ধন আইন করা হয়, কার্যকর হয় ২০০৬ সালে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন ২০০৪ (২০০৪ সালের ২৯ নং আইন)-এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্মসনদ প্রদান করা হয়।

শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট ইস্যু, বিবাহ নিবন্ধন, সরকারি-বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, জমি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তি, গ্যাস-পানি-টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগপ্রাপ্তি, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি, ঠিকাদারি লাইসেন্সপ্রাপ্তি, বাড়ির নকশা অনুমোদনপ্রাপ্তি, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্তি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তিসহ নানা কাজে জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে।

জন্মসনদ নিয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশুদের। স্কুলে ভর্তির সময় শিশুর বয়স প্রমাণের জন্য জন্মসনদ চাওয়া হয়। সময়মতো জন্মনিবন্ধন পেতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে অভিভাবকদের। শিশুর জন্মনিবন্ধন সনদ তুলতে গিয়ে দেখা যায় তাতে বাবা-মায়ের নাম ভুল রয়েছে।

মধ্যে জন্ম নিবন্ধনে এসেছে নানান ধরণের নানান পরিবর্তন, তাতে যেন উপকারের বদলে যেন ভোগান্তিই বাড়ছে। এরই মধ্যে জন্ম নিবন্ধনের  সার্ভার কাজ করছে না। কখনো ফর্ম পূরণ করা গেলেও, ফি প্রদান না করতে পারায়, আবেদন পত্রের ফর্ম ফিলাপ অকার্যকর হচ্ছে।

কখনো বা আবার ওয়েবপেজেই প্রবেশ করা যায় না। আবার কখনো বাবা মায়ের জন্ম নিবন্ধন এক্সেক্স করেতে পারছে না ওয়েব পেইজটি।

এছাড়াও জন্ম নিবন্ধনে নানা ধরণের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলেও আখ্যা দিয়েছেন অনেক নাগরিক।

জন্ম স্থান ও স্থায়ী ঠিকানা একই হবে/হয়!

জন্ম নিবন্ধন ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে কারো যদি স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও জন্ম স্থান একই হয় তাহলে বেঁচে গেলেন, নয়তো ভুল হবেই। সাথে ভোগান্তিও।

স্থায়ী ঠিকানাই জন্মস্থান হতে হবে এমন ধারণা কেন করলেন জন্ম নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝে আসে না! এটা পরিষ্কার হওয়া জরুরী!

বর্তমানে নতুন ভোগান্তি ঢাকার শহরে ওয়ার্ড কমিশনারের অফিসে গেলে তারা জানান, শুধু মাত্র স্থানীয়দের জন্ম নিবন্ধন করা হয়। অস্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ যারা ঢাকার শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন, তাদের জন্ম নিবন্ধন ওয়ার্ড কমিশনারের অফিস থেকে করছেন না। যদিও এখন জন্ম নিবন্ধন করার পুরোপুরি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ওয়ার্ড কমিশনার ও ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে।

তাছাড়া জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে বেশি ভাগ ক্ষেত্রেই বাংলা থেকে ইংরেজি ভাষায় রূপান্তর করতে গিয়ে কোন না ভুল পরিলক্ষিত হচ্ছে! কেননা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে অনেকেই জানেন না, তাই অন্য কারো সাহায্য নিচ্ছেন। হয়তো তিনিও জানেন না কি ভাবে করতে হয়।

নির্ভুলভাবে নিবন্ধন ফর্ম পূরণ কার্যক্রমটি এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে বসে করার ব্যবস্থা করলে জনগণ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে জন্য জন্ম নিবন্ধনের ফর্ম পূরণের জন্য বিশেষ ফি প্রদান করা যেতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখার অনুরোধ থাকছে।

জন্ম নিবন্ধন ভোগান্তিতে জনৈক নারী হতাশ হয়ে আক্ষেপ করে বলেন, জন্ম নিবন্ধন করার চেয়ে সন্তান জন্ম দেয়া কম কষ্টের ও সহজ।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।