সুদান থেকে এ মাসেই বা আগামী মাসের প্রথম দিকে বাংলাদেশিদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ মিশন। সুদানে বাংলাদেশ মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তারেক আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ হাউস যে এলাকায় অবস্থিত সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মীরা গতকাল মঙ্গলবার ওই এলাকায় যেতে পারেনি। তবে সুদানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স তারেক আহমেদ বলেন, ‘এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। তবে আমরা আশা করছি যে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি এই মাসের মধ্যে বা আগামী মাসের প্রথম দিকে সম্পন্ন হবে। আমরা এখনই সরিয়ে নিতে আগ্রহী আমাদের প্রবাসীদের তালিকা করছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব পশ্চিমা দেশ তাদের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অন্যত্র স্থানান্তর করেছে। তবে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি দূতাবাস এখনো চালু রয়েছে।’
চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স বলেন, ‘আমরা, সব কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবার, রাজধানীর বাইরে একটি নিরাপদ স্থানে আছি।’
তিনি বলেন, ‘খার্তুমে পরিস্থিতি এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’
সংঘাতপূর্ণ সুদান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সুদান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল সুদানে সংঘাতে বাংলাদেশের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদের বাসভবনও আক্রান্ত হয়েছে। মেশিনগানের গুলি দেয়াল ভেদ করে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের ভেতরে ঢুকেছে। ওই অবস্থায় পরিবার নিয়ে তাঁকে রাজধানী খার্তুম থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের সরিয়ে আনার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত সুদানেই থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত ২২ এপ্রিল সুদানে বাংলাদেশ দূতাবাসও আক্রান্ত হয়।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সুদানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড স্ট্রাইকিং ফোর্সের (আরএসএফ) লড়াই চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুলোর খবরে সেখানে অন্তত ৪০০ মৃত্যুসহ মানবিক বিপর্যয়ের তথ্য উঠে আসছে।