পবিত্র ঈদুল আজহা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে টানা ৭ দিনের ছুটি শেষে আগামী সোমবার (১ জুন) থেকে দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাড়তি কর্মব্যস্ততা দেখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক বন্ধ এবং নির্বাহী আদেশে ঘোষিত অতিরিক্ত ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে টানা সাত দিনের বিরতি ছিল। এই সময়ে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা থাকলেও অধিকাংশ শাখা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী লেনদেন ও গ্রাহকসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ফলে জমা-উত্তোলন, চেক নিষ্পত্তি, এলসি সংক্রান্ত কার্যক্রম, রেমিট্যান্স সেবা এবং অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম আবারও পুরোদমে চালু হবে।
অন্যদিকে, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার Dhaka Stock Exchange (ডিএসই) এবং Chittagong Stock Exchange (সিএসই)-তেও সোমবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। দীর্ঘ বিরতির পর বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের তৎপরতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ছুটিকালীন সময়ে দেশি-বিদেশি অর্থনৈতিক ও করপোরেট বিভিন্ন ঘটনার প্রভাবও শেয়ারবাজারে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছুটি শেষে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। ফলে সোমবার থেকে দেশের আর্থিক খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের অফিসই নয়, ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজারের পাশাপাশি সরকারি – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও স্বাভাবিক নিয়মে চালু হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও গতি ফিরবে— এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।