অর্থ লিপি

১৫ জুন ২০২৬ সোমবার ১ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশের শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, সরকারি আশ্বাসে বাড়ছে আস্থা ও লেনদেন

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

দীর্ঘ সময়ের মন্দাভাব, আস্থার সংকট এবং ধারাবাহিক মূল্যপতনের পর দেশের শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান সূচকের ঊর্ধ্বগতি, লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সরকারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সপ্র্যপ্তাহের ২য় দিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, যা গত কয়েক মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারের প্রধান সূচকও ইতিবাচক ধারায় অবস্থান করছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র সূচকের উত্থান নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়াই বাজারের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে তারল্য সংকট এবং আস্থাহীনতার কারণে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত আলোচনা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাস বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ এবং ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতির তুলনামূলক স্বস্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজারে টেকসই উন্নতির জন্য শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর নীতিগত বাস্তবায়নও জরুরি। বিশেষ করে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর কাঠামোয় বিনিয়োগবান্ধব সংস্কার, বাজারে নতুন ও মানসম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ধারা তৈরি হতে পারে।

এদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা ধরে রাখতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকার এবং বাজারের অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে স্বল্পমেয়াদি উত্থানের পর বাজার আবারও দুর্বল হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা থাকায় তারা এবার বাস্তব পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেনদেনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং সূচকের স্থিতিশীল অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে দেশের শেয়ারবাজার ধীরে ধীরে একটি নতুন ভারসাম্যে পৌঁছাতে পারে। তবে বাজারের এই ইতিবাচক প্রবণতাকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে আস্থা পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজার আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এগোতে শুরু করেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, আশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হবে এবং পুঁজিবাজার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।