আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বড় ধরনের দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
দিন জুড়ে বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকায় প্রধান সূচকসহ সবকটি সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে বাজারে দর বেড়েছে মাত্র ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৪৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা ০.৭৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৮৫৫.৭২ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস (DSES) সূচক ৯ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে ১,১৯৭.৮১ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর ডিএস-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ২,২১০.৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

দিনভর মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৮০টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকলেও বিক্রেতাদের আধিপত্য পুরো বাজার জুড়েই স্পষ্ট ছিল।
বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯৮টির দর বেড়েছে, ২৪৫টির দর কমেছে এবং ৪৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি একটি দরবৃদ্ধি হওয়া শেয়ারের বিপরীতে প্রায় আড়াইটি শেয়ারের দর কমেছে, যা বাজারের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
দিনের বাজার চিত্র
লেনদেনের শুরুতে সূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে দুপুর ১২টার পর বাজারে বিক্রেতাদের প্রাধান্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে সূচক ধারাবাহিকভাবে নিচে নেমে দিনের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি পর্যায়ে লেনদেন শেষ করে।
সাময়িক সংশোধন নাকি নতুন নিম্নমুখী ধারা?
আজকের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি সাময়িক কারেকশন (Correction), নাকি বাজার আবারও দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতায় প্রবেশ করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এক দিনের দরপতন দিয়ে নতুন প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী কয়েকটি কার্যদিবসে সূচকের গতিপ্রকৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ, লেনদেনের পরিমাণ এবং বাজারে ক্রয়চাপ ফিরে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাখতে হবে।
তাদের মতে, যদি আগামী কয়েক কার্যদিবসে সূচক গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট ধরে রেখে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পায়, তাহলে এটিকে স্বাভাবিক বাজার সংশোধন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে বিক্রির চাপ অব্যাহত থেকে সূচক আরও নিচে নেমে গেলে বাজারে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
সব মিলিয়ে, আজকের লেনদেন বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক থাকার বার্তা দিলেও বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে আগামী কয়েকটি কার্যদিবসের লেনদেন ও সূচকের আচরণের ওপর।