করদাতাদের অসুবিধার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে বাড়তি আর কোনো কর আদায় করা হবে না। এটির মুনাফা থেকে উৎসে যে কর কেটে রাখা হবে, সেটিই চূড়ান্ত কর–দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই বিষয়ে গতকাল বুধবার ,২৩ আগস্ট ,২০২৩ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে সঞ্চয়পত্রের মুনাফাকে করদাতার আয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চলতি অর্থ বছরে পাস হওয়া নতুন আয়কর আইনে সঞ্চয়পত্রের মুনাফাকে করদাতার আয়হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়। এতে ক্ষেত্রবিশেষে করদাতাদের ওপর বাড়তি করের চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। নতুন আইনের এ বিধান যুক্ত করার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর নির্ভরশীল করদাতারা হতাশ হন। করদাতাদের অসুবিধার বিষয় বিবেচনায় এনবিআর বিধানটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়।
আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে যে কর কাটা হতো, সেটিই করদাতার চূড়ান্ত কর দায়হিসেবে বিবেচিত হতো। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা করদাতার আয় হিসেবে যুক্ত হতো না।এখন নতুন প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আগের সেই অবস্থাতেই ফিরে গেল এনবিআর।
ধরা যাক, কোনো করদাতার বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। ওই করদাতা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে বছরে মুনাফা পান ১ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্রের ওই মুনাফা থেকে ১০ হাজার টাকা উৎসে কর কেটে রাখা হয়। নতুন আয়কর আইনের বিধান কার্যকর হলে সে ক্ষেত্রে করদাতার ৫ লাখ টাকা আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের ১ লাখ টাকা মুনাফাও আয় হিসেবে যুক্ত হতো। এরপর ঐ করদাতার যে কর নির্ধারিত হতো, তা থেকে ১০:হাজার টাকা উৎসে কর বাদ দিয়ে বাকিকর পরিশোধ করতে হতো। এখন বিধানটি বাদ দেওয়ায় সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত ১ লাখ টাকা মুনাফা আর আয় হিসেবে যুক্ত হবে না। এ ক্ষেত্রে উৎসে কর হিসেবে কেটে নেওয়া ১০ হাজার টাকাই চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।