বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পাকিস্তানের বিপক্ষে। দেশের পালা বদলের পরে দেশের চলছে রাজনৈতিক সংস্কার। সংস্কার হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডেও। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ক্রিকেট এনে দিলো স্বপ্নের টেস্ট জয়। বাংলাদেশ জিতল ১০ উইকেটে।
ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কমের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন।
মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন । কিন্তু তার নায়কোচিত ইনিংস আক্ষেপে পোড়ায় পাকিস্তানকে। কারণ, মুশফিক, সাদমান, মিরাজদের ব্যাটে প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে ৫৬৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। তাতে লিড দাঁড়ায় ১১৭ রানের।
চতুর্থ দিনের শেষ বেলায় পাকিস্তান যখন ব্যাট করতে নামে তখনও ধারণা করা হচ্ছিল ব্যাটিং সহায়ক পিচ হওয়ায় ম্যাচ ড্র হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ দিনের প্রথম সেশনেই স্বাগতিকদের চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। ৩৫ ওভারে ১০৭ রানে তুলে নেন ৬ উইকেট। দিনের এখনো বাকি দুই সেশন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের হারিয়ে তাই পরাজয়ের শঙ্কায় পাকিস্তান। অন্যদিকে উজ্জীবিত টাইগার শিবির। ৯ রানে পিছিয়ে থেকে মধ্যাহ্ন বিরতির পর মাঠে নামবেন অপরাজিত রিজওয়ান। তাকে সঙ্গ দেবেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।
ম্যাচ বাঁচানোর বড় চাপটা এখন রিজওয়ানের কাঁধেই। কারণ, সঙ্গী হিসেবে পিচে তিনি আর কোনো এক্সপার্ট ব্যাটার পাবেন না। শাহীন আফ্রিদি ছাড়াও আর যারা ব্যাট করতে বাকি আছেন তারা হলেন নাসিম শাহ, মোহাম্মদ আলী এবং খুররাম শেহজাদ। এদের মধ্যে নাসিম শাহর ব্যাটিং এভারেজ সর্বোচ্চ ৭.২১।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো টেস্টে জয় তো দূরের কথা ড্র আছেই মাত্র একটি। ১৩ টেস্টের ১২টিতেই পরাজয়। এবার ইতিহাস বদলালেন দেশের ক্রিকেটাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস (৪৪৮/৬ ডি.)
আইয়ুব ৫৬, শাকিল ১৪১, রিজওয়ায়ন ১৭১*; শরিফুল ৭৭/২, হাসান মাহমুদ ৭০/২।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫৬৫/১০
সাদমান ৯৩, মুশফিক ১৯১, লিটন ৫৬, মিরাজ ৭৭; নাসিম শাহ ৯৩/৩, শাহীন আফ্রিদি ৮৮/২।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ১৪৬/১০ (৫৫)
রিজওয়ান ২২*; সাকিব ২৪/২, শরিফুল ১৮/১/ হাসান মাহমুদ ২০/১, নাহিদ রানা ৩০/১, মিরাজ ৫/১।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩০/০(৬.৩)
জাকির ১৫ (২৬) সাদমান ৯ (১৩)
বাংলাদেশর ১০ উইকেটে জয়।
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ মুসফিকুর রহিম।