বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩০০ ঔষধ কোম্পানি আছে, পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানির ওষুধেও দেশের বাজার সয়লাব। কোম্পানিগুলোর ঔষধ বিভিন্ন মানের হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু নিম্নমানের ঔষধ কোম্পানিও আছে। বাজারে অনেক ওষুধ কোম্পানি থাকবে, অনেক রকমের ওষুধ থাকবে, থাকবেন ডাক্তারও এটাই স্বাভাবিক।
দেশে একটা বহুল প্রচলিত কথা আছে ‘বাঙালি সবই ডাক্তার’। অনেকেই হুটহাট নিজের মতো করে ওষুধের দোকান থেকে নিজেরাই ওষুধ কিনে খেয়ে নেয়। কিংবা ওষুধ বিক্রেতা দোকানির পরামর্শে কিছু ওষুধ খেয়ে নেয়। এগুলো ভুল পন্থা।
উল্লেখ্য, ডাক্তার অনেক হিসাব নিকাশ করে রোগীর অবস্থা দেখে ওষুধ দিয়ে থাকেন, এটাই নিয়ম, এটাই চিকিৎসা বিজ্ঞান।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ ফার্মেসীতে না থাকলে দোকানীরা একই গ্রুপের অন্য কোম্পানির ঔষধ দিয়ে থাকেন। তবে মাঝে মধ্যে তারা কম দামি নিম্ন মানের ঔষধ দিয়ে থাকেন, যা রোগ সারাতে সম্পূর্ণ কার্যকরী নাও হতে পারে।
ঔষধ/ড্রাগ তৈরিতে সাধারণত ২ টি উপকরণ ব্যবহার করা হয় এক ড্রাগ এক্টিভ ফর্ম ও দুই ড্রাগ এক্সিপিয়েন্ট। তার মধ্যে ড্রাগের এক্টিভ ফর্ম রক্ত সংবহনতন্ত্রে গিয়ে রোগের উপশমে কাজ করে। আর ড্রাগের এক্সিপিয়েন্ট (ট্যাবলেট/ক্যাপসুলের রং, স্বাদ, লুব্রিকেশন ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করা নিস্ক্রিয় পদার্থ) পরিপাকতন্ত্র দিয়ে বের হয়ে যায়।নিম্নমানের ঔষধের ক্ষেত্রে দেখা যায় ড্রাগের এক্টিভ ফর্মের তুলনায় এইসব নিস্ক্রিয় পদার্থ বেশি থাকে যার কারণে ঔষধের কার্যকারিতা কমে যায়।
এছাড়াও অজ্ঞতাবসত অনেক দোকানি জেনেরিক নাম কাছাকাছি হওয়ায় অন্য ঔষধ দিয়ে দেন যা প্রেসক্রিপশনের ঔষধ নয়।
যেমন সম্প্রতি এক রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী medroxy-10mg এর বদলে দোকানী methotrexate দিয়ে দেয়। যার কারণে রোগীর শরীরে বিষক্রিয়া দেখা যায়।
এজন্য সকল রোগীর উচিত প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা। কোন ঔষধ অন্য কোম্পানির নিলে সেটা যেন একই জেনেরিক নামের হয় সেটা ভালো ভাবে দেখে নেওয়া এবং ঔষধের মান যাচাই করে নেয়া।
Author
-
মেডিকেল শিক্ষার্থী, এমবিবিএস, ৩য় বর্ষ। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ। গাজীপুর, ঢাকা।
View all posts