মূলত প্রকৃতির সাথে চলতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো পাখি সিরিজ লিখলে কেমন হয়, যেমন ভাবা তেমন কাজ। আমার দেখায় আমাদের দেশ ও প্রকৃতিকে শব্দের চারুতে সাজানোর চেষ্টা করেছি পাখি সিরিজে। পাখি যদিও এখানে মূল চরিত্র তথাপি দেশ ও প্রকৃতিও কম নয়। যুগলবন্দী হয়ে এগিয়ে গেছে বাংলায়…
দোয়েল
আমার মাথায় দোয়েলের ব্রেন
তাই আমি লেজ উঁচিয়ে বলি সোনার বাংলা
তোমরা যারা দেশকে ভালেবাসো
তাদের জন্য আমি শীষ দেই।
শাদাকালো জীবনে খাদ্য হলো
কীটপতঙ্গ আমি তা বাংলার প্রকৃতিতে খুঁজে পাই
আমার মতো তোমাদের মাথায়ও কি দোয়েলের ব্রেন
তোমরাও কি দেশকে ভালোবাসো?
আর বলো আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালোবাসি
তোমাদের একদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের
কাছে নিয়ে যাবো দেখবা কি মমতায়
তাকে বেঁধে রেখেছি চন্দ্রছায়ায়।
শালিখ
ওয়ান ফর সরো টু ফর জয়
থ্রি ফর লেটার ফোর ফর গেষ্টের এই
পাখি স্বরতন্ত্রী কাঁপিয়ে বলতে পারে
বিভিন্ন ধরণের সুর।
আমরা যখন
ভালোবাসি তখন শালিখ লেজ উঁচিয়ে
নাচে আর বলে ভালোবাসি ভালোবাসি।
তোমাদের হৃদয়ে শালিখের জন্য যে ভালোবাসা
তা আসলে মোহন বাঁশির সুর
আর তাই ভালোবেসে কেঁপে কেঁপে উঠি।
চড়ুই
ঝমঝম বৃষ্টির গন্ধে যে পাখি
তার নিজ বাসায় ভেজেনা
বরং কন্ঠ ছাড়ে জোরে সেই পাখিটিই চড়ুই
বিল্ডিংয়ে বাসা বেঁধে সে হতে চায় শহুরে।
তোমরা কেউ গুলটিবাস ছুঁড়ে তাকে মেরোনা
তাহলে তার বাচ্চারা না খেয়ে মারা যাবে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চড়ুই একটা আদরের নাম
সারাদিন কিচির মিচির করে
সে দেশের কথা বলে
আর আমরা হৃদয়বান হয়ে যাই
টিয়া
ঝাঁক বেঁধে টিয়া বলে যায়
সোনার বাংলা সোনার বাংলা
আমরা তাকে দিয়ে ভাগ্য গননা করি
আর বলি সবুজ টিয়ার মন চিরসবুজ।
বটফল তার প্রিয় খাবার
সে ফল খেতে খেতে সে বলে
আমি বাংলায় গান গাই।
আমারা যারা শ্রোতা হিসেবে আছি
তারা ফিরে পাই শৈশব
টিয়া পাখির কথা বলায়।
মাছরাঙা
পানিতে ডাইভ মেরে সে মাছ শিকার করে
তার শিকারী চোখ,
জলাশয়ের পাশে বসে ধ্যন করে
আর সোনার বাংলার উর্বর অংশ
তার শরীরকে স্নান করে দেয়।
তোমরাতো জানো আমরা গর্তে বাসা বাঁধি
হতে পারে তা জলাশয়ের পাশে
আমরা কীটপতঙ্গসহ অন্যান্য খাবার খেলেও
মাছ আমাদের সবচেয়ে প্রিয়।
বন আমাদের আরেক বাসা হলেও
চোরাশিকারিদের অত্যাচারে এখন বনে থাকা দুস্কর
তাই এসো আমরা চোরা শিকারীদের হাত থেকে বাঁচি।
Author
-
নাজমুস শামস একজন কবিতা কর্মী। লেখালেখির শুরু নব্বই দশকে। লিখেছেন বহু কবিতা। তার লেখা ছাপা হয়েছে আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকায়। লিটলম্যাগেও রয়েছে সরব উপস্থিতি। বরিশাল থেকে প্রকাশিত জীবনানন্দ কবিতাপত্রের সম্পাদক মন্ডলির সদস্য। তার এখন পর্যন্ত ৫টি বই বের হয়েছে গুত্তা - ছড়াগ্রন্থ সজলায়তন - কাব্যগ্রন্থ গার্মেন্টস কর্মীর পড়ে পাওয়া স্টাটাস - কাব্যগ্রন্থ সোনার বাংলা রিকনস্ট্রাকশন - কাব্যগ্রন্থ নারকোল পাতার ঘড়িতে টাইম দেখি - কাব্যগ্রন্থ নাজমুস সামসের শ্রেষ্ঠ কবিতা - কাব্যগ্রন্থ
View all posts