অর্থ লিপি

২৪ মে ২০২৬ রবিবার ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সূচক ও লেনদেনের ইতিবাচকতায় লেনদেন ছাড়িয়েছে ৯০০ কোটি, শেয়ারবাজারে আসছে কী সুদিন?

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

আজ শনিবার (২৩ মে) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। বেড়েছে ২১৭ টি কোম্পানির শেয়ারের দর। সেই সাথে গতদিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ।

আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ৬৪ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়েছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে।এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৩৪ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ ডিএসইতে ৯০২ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৫ টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৭ টি কোম্পানির, বিপরীতে ১১৭ টি কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৬০ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে লেনদেন ৯০০ কোটি টাকা ছাড়ানো এবং সূচকের এই ইতিবাচক ধারা নিঃসন্দেহে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মনে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে এটিকে এখনই পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি “সুদিন” বা স্থায়ী ঘুরে দাঁড়ানো বলা যাবে কিনা, তা নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং সুদিনের সম্ভাবনার পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভালো দিক এবং সতর্ক থাকার মতো বিষয়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

কেন এই ইতিবাচক প্রবণতা? (আশার দিক)

আকর্ষণীয় মূল্যে শেয়ার :

দীর্ঘদিন দরপতনের কারণে ভালো ও শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন (Fundamentally Strong) অনেক শেয়ারের দাম বর্তমানে বেশ নিচে নেমে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও সচেতন বিনিয়োগকারীরা এই সুযোগে কম দামে ভালো শেয়ার পোর্টফোলিওতে যোগ করছেন, যা লেনদেন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

নীতিগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা:

নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BSEC) ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে সেন্টিমেন্ট তৈরি করছে।
নির্দিষ্ট খাতের আধিপত্য: প্রকৌশল (Engineering), ওষুধ ও রসায়ন (Pharmaceuticals) এবং সাধারণ বিমা (General Insurance) খাতের শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও টার্নওভারের গতি বৃদ্ধি বাজারকে সচল রাখছে।

এখনই শতভাগ নিশ্চিত না হওয়ার কারণ (সতর্কতার দিক)

পুঁজিবাজারে সুদিন স্থায়ী হতে হলে কেবল দু-একদিন বা স্বল্পমেয়াদি লেনদেন বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। কিছু সামষ্টিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে, সূচক কিছুটা বাড়লেই একটি বড় অংশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার (Profit-taking) প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সূচকের ধারাবাহিক উত্থানকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও পারফরম্যান্স:

বেশ কিছু ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার পর রেকর্ড ডেট-পরবর্তী সমন্বয় এবং কিছু দুর্বল ব্যাংকের পারফরম্যান্সের কারণে বাজারে এক ধরনের মিশ্র ও সতর্ক আবহাওয়া কাজ করছে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: ডলারের বিনিময় হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এখনো কিছুটা “ধীরে চলো” নীতি অবলম্বন করতে বাধ্য করছে।
আগামী দিনগুলোর জন্য বাজার পর্যবেক্ষণ

বাজারের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে লেনদেন ধারাবাহিকভাবে ৮০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকার ঘরে স্থিতিশীল থাকা প্রয়োজন। সূচক ও লেনদেনের এই উত্থান যদি সাময়িক বা সুনির্দিষ্ট কিছু শেয়ার-কেন্দ্রিক না হয়ে সামগ্রিক বাজারের সব খাতের অংশগ্রহণে হয়, তবেই একে প্রকৃত সুদিনের আভাস বলা যাবে।

এই মুহূর্তে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো গুজবে কান না দিয়ে, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও ট্র্যাক রেকর্ড দেখে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।