দেশের শেয়ার বাজারে চলছে অস্থরতা, অস্থিরতার মাত্রা নিয়মিত বেড়েই চলছে।
হটাৎ কি কি কারনে বাজার এত দ্রুত পতন হয়েছে তার কিছু কারণ উপস্থাপন করা হলোঃ
গত ৫/৬ বছর ধরে, বিশেষ করে আগস্ট মাসের ১০ তারিখের পরে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ও ইপিএস আসার মৌসুম আসলেই হঠাৎ করে মার্কেট স্লো হয়ে যায়।
এর প্রধান কারণ লভ্যাংশ কেমন আসবে ইপিএস কেমন আসবে, কম আসবে নাকি বেশি আসবে এই চিন্তার কারণে সাধারণত বড় বিনিয়োগকারীরা অনেকটা হিসাব কষে আগান।
গত ৫/৬ বছর ধরে আগস্ট, সেপ্টেম্বরে যে মার্কেট ডাউন থাকে সেই প্রবণতা এইবারেও একটু আগেই দেখা গেল।
এবছর বাড়তি যোগ হয়েছে নির্বাচন কেন্দ্রীয় অস্থিরতার আশংকা, বেশির ভাগ মানুষের ধারণা রাজনৈতিক অস্থিরতা আসবেই এমন মনোভাব বাজার পতনের অন্যতম কারণ হিসাবে দাড়িয়েছে বর্তমান পেক্ষাপটে।
নির্বাচন কেন্দ্রীয় অস্থিরতা হতে পারে, এই গুজব বাজারে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়েছে যার ফলে মার্জিন লোনে ব্যবসা করা বড় বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছু শেয়ার লসে বিক্রি করে লোন এডজাস্ট করেছেন।
পাশাপাশি মার্জিন লোন দেয়া প্রতিষ্ঠান গুলোও রাজনৈতিক বিষয়ে তারাও রক্ষনাত্মক থাকতে নতুন করে মার্জিন লোন দিচ্ছে তো নাই বরং এডজাস্টের জন্যে অনুরোধ করছেন বিনিয়োগকারীদের। যে কারণে মার্জিন লোনধারী বড় কোডের লোকজন আতংকে আছেন।
গত ২ মাস যাবৎ বাজারে কিছু শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি এমন একটা লেভেলে চলে গিয়েছিল, যে গত ২/৩ বছর যাবত উচ্চ দামে কিনে আটকে থাকা শেয়ার অল্প লাভে বিক্রি করাতে ব্যাপক বিক্রি চাপে পরেছিল। গত ২/৩ মাসের বাড়তে থাকা শেয়ারগুলো এক যোগে দাম কমাতে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করাতে সাধারণ মানুষ হাতে থাকা শেয়ার পেনিক হয়ে দ্রত বিক্রি করাতে বাজারের পতন তরান্বিত হয়েছে।
ফ্লোরের কাছাকাছি কোন শেয়ারের দাম চলে আসলেই বিনিয়োগকারীরা ফ্লোরে আটকে যাবার ভয়ে দ্রত বিক্রি করছেন।
বাজারের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোরে আটকে থাকার কারনেও বাজার স্থবির। হঠাৎ হঠাৎ ফ্লোর উঠে যাচ্ছে এমন গুজবে ও মানুষ আতংকিত।
গত বৃহস্পতিবার ও রবিবার বাজারে গুজব ছিল ইনিস্টিউটরা চাপ দিচ্ছে ফ্লোর তুলতে। তাই তারা ইচ্ছে করে শেয়ার বিক্রি করছেন। এটাও বাজার পতনের কারণ।
এছাড়াও বাজার পতনের একটি অন্যতম কারণ ফেইসবুকে শেয়ার বাজার রিলেটেড গ্রুপগুলোতে পেনিক দেয়া, না বুঝে না জেনে মানুষকে মিস গাইড করছেন কিছু টেকনিক্যাল এনালিস্টরা।
বাজারের এই সংকটময় মুহূর্তে করনীয় কি? বিষয়টি নিয়ে একাধিক বাজার বিশ্লেষকদের সাথে কথা বললে তাদের বেশির ভাগই জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা অবসান না হলে মানুষ আস্থা পাবেন না। তাই নীতিনির্ধারণী লেভেলের নীতিনির্ধারকদের বাজারকে স্বাভাবিক রাখতে তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি বাজারের ভালো মানের শেয়ারের যাতে স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরে তার সুব্যবস্থা করা ।
বাজারের সার্বিক অবস্থা নিয়ে ২ জন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর সাথে কথা বললে তারা জানান বাজারের সংকটময় মুহূর্তই মূলত বিনিয়োগের উত্তম সময়।
একজন বলেন, শেয়ার বাজার যখন ক্রিটিকাল আচরণ করে তখন ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যে নিজেকে তৈরি রাখতে পারলেই বাজার থেকে ভাল মুনাফা পাওয়া সম্ভব।