অর্থ লিপি

২৫ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্জিন ঋণে বড় সুখবর! কোর ক্যাপিটালের ৪ গুণ অর্থায়ন, পিই সীমা ৪০

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

পুঁজিবাজারে মার্জিন অর্থায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নতুন সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কোর ক্যাপিটাল বা নিট সম্পদের সর্বোচ্চ চার গুণ পর্যন্ত মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে। একই সঙ্গে কোনো একক সিকিউরিটিতে মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া মার্জিন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিওর সর্বোচ্চ সীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা তুলনামূলক বেশি পিই রেশিওর শেয়ারও এখন মার্জিন অর্থায়নের আওতায় আসতে পারে।

গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিভিন্ন বিধি ও উপবিধি সংশোধন করা হয়েছে। কমিশনের রেগুলেটরি সেকশনের প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় ১৬ আগস্ট ২০২৬।

কোর ক্যাপিটালের চার গুণ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ

সংশোধিত বিধিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো মার্জিন অর্থায়নকারীর অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়ানো। আগে কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার কোর ক্যাপিটাল বা নিট সম্পদের সর্বোচ্চ তিন গুণ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারত। নতুন বিধানে এ সীমা বাড়িয়ে চার গুণ করা হয়েছে।

তবে একজন গ্রাহকের ক্ষেত্রে মার্জিন অর্থায়নের পরিমাণ তার নিজস্ব ইকুইটির বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইকুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১ থাকবে।

এক শেয়ারে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অর্থায়ন

একটি নির্দিষ্ট সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়নের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো একক সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়নকারীদের মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করা যাবে।

এর ফলে নির্দিষ্ট কোনো শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ আগের তুলনায় বাড়ল। তবে একই সঙ্গে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগের ঝুঁকি বিবেচনায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন থাকবে।

পিই রেশিওর সীমা ৪০

মার্জিন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে। আগে পিই রেশিও ৩০-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়নের সুযোগ ছিল না। নতুন বিধিমালায় সেই সীমা বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে।

তবে কোনো কোম্পানির ইপিএস ঋণাত্মক হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

তালিকাভুক্ত জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই রেশিওর পরিবর্তে প্রাইস-টু-বুক বা পিবি রেশিও বিবেচনা করা হবে। কোনো জীবন বীমা কোম্পানির পিবি রেশিও ৩-এর বেশি হলে অথবা কোম্পানির নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি ঋণাত্মক হলে ওই সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

মার্জিন হিসাব খুলতে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ

সংশোধিত বিধিমালায় প্রথমবারের মতো মার্জিন হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকের ন্যূনতম বিনিয়োগের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

মার্জিন অর্থায়ন গ্রহণের সময় কোনো গ্রাহকের মার্জিন হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে ওই হিসাবে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

এ ছাড়া কোনো গ্রাহক নিজস্ব অর্থ দিয়ে মার্জিন-অযোগ্য কোনো সিকিউরিটি কিনলেও সেই সিকিউরিটির মূল্য মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইকুইটি হিসেবে গণনা করা যাবে না।

ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন কল

গ্রাহকের মার্জিন হিসাবের ইকুইটির ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো মার্জিন হিসাবে গ্রাহকের ইকুইটি মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশের কম হতে পারবে না।

ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট মার্জিন অর্থায়নকারীকে গ্রাহককে মার্জিন কল দিতে হবে। লিখিতভাবে, ই-মেইল বা অনুমোদিত অন্য কোনো মাধ্যমে গ্রাহককে বিষয়টি জানাতে হবে।

মার্জিন কলের পর তিন লেনদেন দিবস পার হলেও গ্রাহক প্রয়োজনীয় মার্জিন জমা দিতে ব্যর্থ হলে নতুন করে তাকে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। তবে ইকুইটি ৫০ শতাংশে উন্নীত বা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সিকিউরিটিজ বিক্রি করার সুযোগ থাকবে।

ইকুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নামলে বাধ্যতামূলক বিক্রি

বিধিমালায় সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যখন গ্রাহকের ইকুইটি মার্জিন অর্থায়নের ২৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে।

এ অবস্থায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক সিকিউরিটিজ কোনো নোটিস ছাড়াই বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি করতে হবে।

তবে মার্জিন অর্থায়নকারী বিক্রয় আদেশ দেওয়ার পরও যদি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর না হয় অথবা বিলম্বে কার্যকর হয়, সে কারণে সৃষ্ট ক্ষতির দায় মার্জিন অর্থায়নকারীর ওপর বর্তাবে না বলে সংশোধিত বিধিমালায় শর্ত রাখা হয়েছে।

জি’, ‘এন’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন নয়

মার্জিন অর্থায়নের আওতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার ছাড়া অন্য কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

একই সঙ্গে ‘জি’, ‘এন’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজ, এসএমই, এটিবি এবং ওটিসি প্লাটফর্ম বা বোর্ডে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কোনোভাবেই মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

আলাদা ব্যাংক হিসাব বাধ্যতামূলক

মার্জিন অর্থায়নের অর্থ ব্যবস্থাপনায়ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মার্জিন অর্থায়নের জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে হবে এবং ওই হিসাব শুধু মার্জিন অর্থায়নসংক্রান্ত কার্যক্রমেই ব্যবহার করা যাবে।

কোনো শাখা অফিস বা ডিজিটাল বুথের নামে পৃথক মার্জিন ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে না। ইতোমধ্যে এ ধরনের নামে পরিচালিত কোনো ব্যাংক হিসাব থাকলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর কমিশনের অনুমোদন ছাড়া তা পরিচালনা করা যাবে না।

এক বছরের মার্জিন চুক্তি ও পৃথক হিসাব

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন চুক্তির মেয়াদও নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্জিন চুক্তির মেয়াদ হবে এক বছর, যা কোনো পক্ষ বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে লিখিত নোটিস দিয়ে চুক্তি বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া একজন গ্রাহকের জন্য একই সময়ে একটি নগদ হিসাব এবং একটি মার্জিন হিসাব পরিচালনার বিষয়টিও বিধিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?

নতুন সংশোধনকে পুঁজিবাজারের জন্য একই সঙ্গে তারল্য বাড়ানোর সুযোগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো হিসেবে দেখা যায়। কোর ক্যাপিটালের বিপরীতে অর্থায়নের সীমা তিন গুণ থেকে চার গুণ হওয়ায় মার্জিন অর্থায়নকারীদের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। পিই সীমা ৪০ হওয়ায় আরও কিছু শেয়ার মার্জিন সুবিধার আওতায় আসতে পারে।

অন্যদিকে, গ্রাহকের ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন কল এবং ২৫ শতাংশের নিচে নামলে নোটিস ছাড়াই সিকিউরিটিজ বিক্রির বিধান বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে সংশোধিত বিধিমালায় একদিকে মার্জিন অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে গ্রাহকের ইকুইটি, মার্জিন কল, বাধ্যতামূলক বিক্রি এবং যোগ্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের কাঠামোও শক্ত করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিধিমালা কীভাবে প্রয়োগ করে এবং বিনিয়োগকারীরা বাড়তি অর্থায়ন সুবিধা কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করেন তার ওপর।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।