অর্থ লিপি

১০ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার ২৭ চৈত্র ১৪৩২

এক নজরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক নিয়ম-কানুন

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

নামাজ ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং একজন মুসলমানের জীবনে প্রতিদিনের বাধ্যতামূলক ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক জীবন গঠনের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ফরজ। তাই নামাজের সঠিক নিয়ম-কানুন জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুসলমানের জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও প্রয়োজনীয় দোয়া

মুসলমানের জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ ইবাদত। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই নামাজ আদায় করেন, তবে সঠিক নিয়ম দোয়া ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। পাঠকদের জন্য এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।

নামাজ শুরুর আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি

১। অজু থাকতে হবে
২। শরীর, কাপড় ও নামাজের স্থান পাক হতে হবে
৩। গোসল ফরজ হলে আগে গোসল করতে হবে
৪। সতর ঢাকা থাকতে হবে
৫। পুরুষ: নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত
৬। মহিলা: মুখ ও হাতের কবজি ছাড়া পুরো শরীর
৭। নির্দিষ্ট ওয়াক্তে নামাজ আদায় করতে হবে
৮। কিবলামুখী হতে হবে, অর্থাৎ কাবা শরিফের দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে
৯। মনে মনে নির্দিষ্ট নামাজের নিয়ত করতে হবে

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ রয়েছে। ফরজের আগে-পরে ১২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এশার পরে ৩ রাকাত ওয়াজিব বিতর নিয়মিত আদায় করা হয়।

ফজর
* ২ রাকাত সুন্নত
* ২ রাকাত ফরজ

যোহর
* ৪ রাকাত সুন্নত
* ৪ রাকাত ফরজ
* ২ রাকাত সুন্নত

আসর
* ৪ রাকাত সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা
* ৪ রাকাত ফরজ

মাগরিব
* ৩ রাকাত ফরজ
* ২ রাকাত সুন্নত

এশা
* ৪ রাকাত সুন্নত
* ৪ রাকাত ফরজ
* ২ রাকাত সুন্নত
* ৩ রাকাত ওয়াজিব বিতর

নামাজ পড়ার ধাপ (সাধারণ নিয়ম)

১।
তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু। হাত তুলে বলা: আল্লাহু আকবার

২। সানা পাঠ:
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।

৩। তাআউয ও তাসমিয়া:
আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

৪। সূরা আল-ফাতিহা তেলাওয়াত এবং অন্য একটি সূরা মিলানো

৫। রুকু
রুকুতে বলা: সুবহানা রব্বিয়াল আজিম (৩ বার)

৬। কাওমা
সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ
রব্বানা লাকাল হামদ

৭। সিজদা
সিজদায় বলা: সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা (৩ বার)

৮। দুই সিজদার মাঝে দোয়া
আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াজ্বুরনী, ওয়াহদিনী, ওয়া আ’ফিনী, ওয়ারযুক্বনী

৯। দুই রাকাত শেষে বৈঠক

১০। শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা

১১। ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ

তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু)

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াছ্ছালাওয়াতু ওয়াত্তাইয়্যিবাতু, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিছ সালিহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ:
আমাদের সব সালাম, ইবাদত ও পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

দরুদ শরিফ

তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতুর পর পড়তে হয়-
“আল্লহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা আ’লা ইব্রহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজী-দ্। আল্লাহুম্মা বারিক্ আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আ’লি মুহাম্মাদিন, কামা বা-রাকতা আ’লা ইব্রহীমা ওয়া আ’লা আ’লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ ।

অর্থ:
হে আল্লাহ, দয়া ও রহমত করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান। হে আল্লাহ, বরকত নাযিল করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী।

দোয়া মাসুরা

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুল্মান কাসীরাওঁ ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা; ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্তাল গফুরুর রাহীম ।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছিআর আপনি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই। অতএবআপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষ ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহমত করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু

এছাড়া পড়া যায়:
রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান নার।

বেতর নামাজ ও দোয়া কুনুত:
এশার পর ৩ রাকাত ওয়াজিব বেতর নামাজ আদায় করা হয়। তৃতীয় রাকাতে সূরা মিলানোর পর অতিরিক্ত তাকবির বলে দোয়া কুনুত পড়তে হয়।

দোয়া কুনুত:
আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা, ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নুমিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা, ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাইঁ ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা নাবুদু, ওয়া লাকা নুছল্লি ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাসয়া ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা, ইন্না আজাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই কাছে ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং তোমার উত্তম প্রশংসা করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমাকেই সিজদা করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমার রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার আযাব কাফেরদের জন্যই নির্ধারিত

নামাজে পাঠযোগ্য কয়েকটি ছোট সূরা

নামাজে ফাতিহার সাথে মিলিয়ে যে কোনো সূরা পড়া যায়। প্রচলিত কয়েকটি ছোট সূরা
* সূরা ইখলাস
* সূরা ফালাক
* সূরা নাস
* সূরা কাফিরুন
* সূরা কাউসার
* সূরা নাসর
* সূরা ফীল
* সূরা কুরাইশ
* সূরা লাহাব

নিম্নে দশটি সূরা এবং তার উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ্‌ লেখা হল। সূরাগুলোর আয়াতের উচ্চারণ অন্য ভাষায় করা সম্ভব নয় এবং অনেক উলামার মতে তা বৈধও নয়।

সূরা ফাতিহা
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আর-রহমানির রহিম। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যাকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকানাস্তায়ীন। ইহদিনাস সিরাতল মুস্তাকীম। সিরাতল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম, গয়রিল মাগদূবী আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন। আমিন।

বাংলা অর্থ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির পালনকর্তা। যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম। তাদের পথ, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

সূরা ইখলাস

উচ্চারণ: কুল হু ওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লা-হুস সমাদ। লাম ইয়ালিদ, ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়া কুল্‌লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

বাংলা  অর্থ: বলো তিনিই আল্লাহ একক-অদ্বিতীয়, আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

সূরা ফালাক্ব

উচ্চারণ: কুল আঊযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিং শার্রি মা খলাক্ব। ওয়ামিন শার্রি গসিক্বিন ইযা ওয়াক্বব। ওয়ামিং শার্রিন্‌ নাফ্‌ফা-ছা-তি ফিল উক্বদ। ওয়ামিং শার্রিহা-ছিদিন ইযা হাছাদ।

বাংলা অর্থ

বলুন আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ভোরের রবের , তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রির অনিষ্ট হতে যখন তা সমাগত হয় , এবং জাদুকরদের অনিষ্ট হতেযারা গিরায় ফুঁ দেয়,  এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতেযখন সে হিংসা করে।

সূরা নাস

উচ্চারণ: কুল আঊযু বিরব্বিন্‌ না-ছ। মালিকিন্‌ না-ছ। ইলা-হিন্না-ছ। মিং শার্রিল ওয়াছ ওয়ছিল খন্না-ছ। আল্লাযী ইউওয়াছ -উয়িছু-ফীছু দূরিন্না-ছ। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্‌ না-ছ।

বাংলা অর্থ
বলুন আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধিপতির, মানুষের মাবুদের,  সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে যে বার বার ফিরে আসে, যে মানুষের হৃদয়ে কুমন্ত্রণা দেয়, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।

সূরা কা-ফিরুন

উচ্চারণ: ক্বুল ইয়া আই য়ুহাল কা-ফিরুন। লা- আ’বুদু মা- তা’বুদূন। অলা- আন্তুম আ’-বিদূনা মা- আ’বুদ। অলা- আনা আ’-বিদুম মা আ’বাত্তুম। অলা- আন্তুম আ’-বিদূনা মা- আ’বুদ। লাকুম দ্বীনুকুম অলিয়া দ্বীন।

অর্থ:- বল, হে কাফের দল! আমি তার উপাসনা করি না, যার উপাসনা তোমরা কর। তোমরাও তাঁর উপাসক নও, যাঁর উপাসনা আমি করি। আমি তার উপাসক হ্‌ব না, যার উপাসনা তোমরা কর। আর তোমরাও তাঁর উপাসক নও, যাঁর উপাসনা আমি করি। তোমাদের ধর্ম তোমাদের এবং আমার ধর্ম আমার (কাছে প্রিয়)।

সূরা কাউসার

উচ্চারণ: ইন্না- আ’ত্বাইনা-কাল কাউষার। ফাস্বাল্লি লিরব্বিকা অন্‌হার। ইন্না- শা-নিআকা হুওয়াল আবতার।

অর্থ:- নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে কাউসার (হাওয) দান করেছি। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড় এবং কুরবানী কর। নিশ্চয় তোমার শত্রুই হল নির্বংশ।

সূরা নাসর

উচ্চারণ: ইযা জা-আ নাস্বরুল্লা-হি অল ফাতহ। অরাআইতান্‌ না-সা ইয়্যাদখুলুনা ফী দ্বীনিল্লা-হি আফওয়াজা। ফাসাব্বিহ্‌ বিহামদি রাব্বিকা অস্তাগফিরহু; ইন্নাহু কা-না তাউওয়া-বা।

অর্থ: যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়। তুমি দেখবে মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে। তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল।

সূরা ফীল

উচ্চারণ: আলাম তারা কাইফা ফাআলা রব্বুকা বিআস্বহা-বিল ফীল। আলাম য়্যাজ্‌আল কাইদাহুম ফী তায্বলীল। অআরসালা আলাইহিম ত্বাইরান আবা-বিল। তারমীহিম বিহিজারাতিম মিন সিজ্জীল। ফাজাআলাহুম কাআস্বফিম মা’কূল।

অর্থ

তুমি কি দেখ নি, তোমার প্রতিপালক হ্‌স্তীবাহিনীর সঙ্গে কি করেছিলেন? তিনি কি ওদের কৌশলকে ব্যর্থ করে দেন নি? তিনি তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেন। যারা ওদের উপর নিক্ষেপ করে কঙ্কর। অতঃপর তিনি ওদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।

সূরা ক্বুরাইশ

উচ্চারণ: লিঈলা-ফি ক্বুরাইশ্‌ ঈলা-ফিহিম রিহ্‌লাতাশ শিতা-ই অস্‌স্বাইফ্‌ ফাল য়্যা’বুদু রব্বাহা-যাল বাইত্ আল্লাযী আত্বআমাহুম মিন জু’ । অআ-মানাহুম মিন খাঊফ।

অর্থ

যেহেতু কুরাইশের জন্য শীত ও গ্রীষ্মের সফরকে তাদের স্বভাব সুলভ করা হয়েছে, সেহেতু ওরা উপাসনা করুক এই গৃহের রক্ষকের। যিনি ক্ষুধায় ওদেরকে আহার দিয়েছেন এবং ভীতি হতে নিরাপদ করেছেন।

সূরা লাহাব

উচ্চারণ: তাব্বাৎ য়্যাদা আবী লাহাবিঁউঅতাব্ব মা আগনা আনহু মা-লুহু অমা কাসাব। সায়্যাস্বলা না-রান যা-তা লাহাব। অমরাআতুহুহাম্মা-লাতালহাত্বাব। ফী জীদিহাহাবলুম মিম মাসাদ।

অর্থ

ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুইহাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও উপর্জিত বস্তু তার কোন উপকারে আসবে না। সে প্রবেশ করবে লেলিহান শিখাবিশিষ্ট অগ্নিকুন্ডে। আর তার স্ত্রীও -যে কাঠের বোঝা বহনকারিণী। ওর গলদেশে খেজুর চোকার রশি হবে।

(প্রতিটি সূরার উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ উপরে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।)

দুই, তিন ও চার রাকাত নামাজের পার্থক্য

দুই রাকাত নামাজ
দ্বিতীয় রাকাত শেষে বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরাতে হয়।

তিন রাকাত নামাজ
দুই রাকাত শেষে শুধু তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয় রাকাত শেষে পূর্ণ বৈঠক।

চার রাকাত নামাজ
দুই রাকাত শেষে শুধু তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয় রাকাত শেষে না বসে চতুর্থ রাকাত আদায়। শেষে পূর্ণ বৈঠক।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
* নামাজে খুশু-খুজু রাখা জরুরি
* ভুল হলে সাহু সিজদা দিতে হয়
* জামাতে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব

নামাজ কেবল শারীরিক ইবাদত নয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের ভিত্তি। নিয়ম মেনে, সময়মতো এবং একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করলে ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই নামাজকে শুধু দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। নিয়মিত ও সঠিকভাবে নামাজ আদায়ই পারে একজন মানুষকে সৎ, সংযমী ও নৈতিক জীবনের পথে পরিচালিত করতে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।