অর্থ লিপি

৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরকারী এত সুবিধা পাবার পরেও পাওয়ার সেক্টরের কোম্পানিগুলো এত লস করে কিভাবে ?

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি একটি নিয়মিত বিষয়। দেশের শেয়ার বাজারও তার বাইরে নয়। কিন্তু এভাবে ধারাবিহিক ভাবে চলারও নয়। বেশ সময় পার হয়েছে, এসেছে স্বচ্ছতার সময়ও।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ফুয়েল ও পাওয়ার সেক্টরে মোট ২৩ টি কোম্পানি আছে. ইদানিং মনে হচ্ছে যেন তালিকাভুক্ত ফুয়েল ও পাওয়ার সেক্টরের কোম্পানি গুলো যেমন খুশি তেমন করে সাজানো আর্থিক প্রতিবেদন দিচ্ছে। এই  অস্বচ্ছ প্রতিবেদনগুলোর স্বচ্ছতা যাচাই করবে কে?

দেশ তথা সরকার থেকে পাওয়ার কোম্পানিগুলি এত এত সুবিধা নেয়ার পরও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো প্রতিটি কোয়ার্টারে লস করে কিভাবে? যা বোধগম্য নয়।

নিন্মে পাওয়ার কোম্পানিগুলি যে সব বড় বড় সুবিধা সরকার থেকে পাচ্ছে সেগুলি হলো:

১। ২০৩৬ সাল পর্যন্ত কর দিতে হবে না বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোকে।

২। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তেল আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করেছে সরকার।

৩। যত খু‌শি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পার‌বে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা।

৪। বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের উপর বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা বাড়তি সুদ পেতে যাচ্ছেন।

৫। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ না করে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ নিয়েছে ৯০ হাজার কোটি টাকা।

৬। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের দাবি মত বিদ্যুতের দামও বারবার বাড়ানো হয়েছে।

৭। এখন বিশ্ববাজারে সব ধরনের জ্বালানির ব্যাপক দর পতন ঘটেছে। বিপিসি থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা ছাড়াও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি আমদানির অনুমতিও দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকিও এখন পর্যন্ত বহাল রেখেছে সরকার।

৮। এছাড়াও শিগগিরই সৌর বিদ্যুৎ থেকে ১০৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি একের পর এক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোকে ধাপে ধাপে আরও সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

 

এতো এতো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার পরে ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো প্রতি কোয়ার্টারে লস দেখায় কিভাবে? অথচ করোনা মহামারী, যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মাঝেও ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি গত কোয়ার্টারে ১০০% এবং টাটা গ্রুপ ৪৮% লাভ করেছে। আমাদের দেশের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের এত অনিয়ম খতিয়ে দেখার কি কেউ নেই। বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলি শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে মালিকদের নিজেদের উন্নয়ন হলেও, বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের সাথে করে যাচ্ছে অনিয়ম, ঠকাচ্ছে নাম মাত্র দিচ্ছে লভ্যাংশ দিয়ে।

আমি একজন বিনিয়কারী হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ পাওয়ার কোম্পানিগুলির ফিনান্সিয়াল রিপোর্ট গুলো তদন্ত করে দেখা।

লিখেছেন
নাসরিন জুই।
শেয়ার বাজার বিনিয়োগকারী।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।