আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকেরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে আজ গত কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে।
আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ৫৪.৬৩ পয়েন্ট কমে সূচক অবস্থান করছে ৫৫৭৮.৯৭ পয়েন্টে।এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৬. ১৬ পয়েন্ট কমে ১২২৯.৫৬ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস–৩০’ সূচক ৪.২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৯৮৪.৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে ৬০২.৭৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরকার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৫৯৭.৫৬ কোটি টাকা।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৪ টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনেঅংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টি কোম্পানির, বিপরীতে ২৭৪ কোম্পানিরদর কমেছে। পাশাপাশি ৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ধারাবাহিক দরপতনের দিশেহারা হয়ে পরেছেন বিনিয়োগকারীরা।টানা ৩ দিন দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ভর করেছে। বাজারের পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সূচকের দরপতন শুরু হলে কে কার আগে বিক্রি করে দেবে, সে ব্যাপারে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। দেখা গেছে, দরপতন শুরু হলেই দিনের সর্বনিম্ন দামে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন অনেক বিনিয়োগকারী। এতে বাজার আরও দ্রুত পড়তে থাকে। ফলে ক্রেতার অভাবে সর্বোচ্চ দরপতন হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না।
আজ ভালো মৌলভিত্তির বেশির ভাগ শেয়ারেরই দরপতন ঘটে। তাতেই সূচকটি বেশি কমেছে। এর বিপরীতে দুর্বল মানের কিছু কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি ঘটেছে। তবে স্বল্প মূলধনী এসব কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বাজার সংশ্লিষ্ট লোকজন বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানিগুলোর শেয়ার অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। তার বিপরীতে দুর্বল মানের কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছিল। কারসাজির মাধ্যমেই এসব শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে ভালো বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
তাছাড়া দীর্ঘদিন বাজারে ফ্লোর প্রাইজ থাকার কারণে মানুষের মধ্যে একটা ভীতি জেগে আছে, টানা দর পতনের কারণে আবারও হুট করে ফ্লোর প্রাইজ দিয়ে দেয় কিনা, এমন আতংকেও অনেকে শেয়ার বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি হাউজের কর্মকর্তারা।মোটকথা বিনিয়োগকারীরা টানা দরপতনে কারণে নানাবিধ গুজবের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।