টানা ছয় দফা দাম বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রতি ভরিতে ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন স্বর্ণের দাম (প্রতি ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম)
• ২২ ক্যারেট: ২,৬৮,২১৪ টাকা
• ২১ ক্যারেট: ২,৫৬,০২৫ টাকা
• ১৮ ক্যারেট: ২,১৯,৪৫৮ টাকা
• সনাতন পদ্ধতি: ১,৭৯,১৫৯ টাকা
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২১ ক্যারেট ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ দফা বাড়ানো এবং ১৩ দফা কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
রুপার দামও কমলো
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভরিতে ৬৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা।
নতুন দর অনুযায়ী—
• ২১ ক্যারেট: ৬,২৪০ টাকা
• ১৮ ক্যারেট: ৫,৩৬৫ টাকা
• সনাতন পদ্ধতি: ৪,০২৪ টাকা
চলতি বছর রুপার দাম ২২ দফা সমন্বয় হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ বার বেড়েছে এবং ৮ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে ১৩ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের নিম্নগতি এবং ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতিও ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দফা ধারাবাহিক বৃদ্ধির পর বড় অঙ্কে দাম কমায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় যারা উচ্চ দামে স্বর্ণ কিনেছেন, তারা সাময়িক চাপে পড়তে পারেন।
তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণকে এখনো নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। তাই বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।