শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল করা হয়েছে। গত সোমবার (১৯ আগস্ট) বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের যোগদানের পর গতকাল বৃহস্পতিবার এ রদবদল করা হয়। এই দফায় বিএসইসির দুই কমিশনারের পাশাপাশি নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে।
সংস্থাটির দুই কমিশনারের মধ্যে এটিএম তারিকুজ্জামানকে হিসাব বিভাগ, করপোরেট ফাইন্যান্স, ডেরিভেটিভস, আইসিটি, আইন ও বাজার মধ্যস্থতাকারী বিষয়ক সংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপর কমিশনার মো. মোহসীন চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে প্রশাসন ও ফাইন্যান্স, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা বা ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স, এনফোর্সমেন্ট, মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ও ইনভেস্টিগেশন, গবেষণা ও উন্নয়ন, বার্ষিক কর্মসম্পাদনবিষয়ক বিভাগের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির পাঁচ সদস্যের কমিশনে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন তিনজন। গতকাল দুই কমিশনারের দায়িত্বে রদবদল সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
বিএসইসির কমিশনারের বাইরে নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে অপর এক আদেশে। তাতে কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেরিভেটিভস ও ইন্টারনাল নিরীক্ষা বিভাগের। আগে তিনি মুখপাত্রের পাশাপাশি ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।
নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে বাজার মধ্যস্থতাকারী বিভাগ ও ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্ব। আগে তিনি ডেরিভেটিভস ও ইন্টারনাল নিরীক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।
নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের। আগে তিনি ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্বে ছিলেন। আশরাফুল ইসলামকে আগের মতো তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।
নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের। আগে তিনি করপোরেট ফাইন্যান্স বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।
মাহবুবুল আলমকে বিএসইসির প্রশাসন-আর্থিক বিভাগ ও কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে করপোরেট ফাইন্যান্স বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে আগের মতোই আইন বিভাগের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।
কামরুল আনাম খান আগে হিসাব এবং গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। সেখান থেকে নতুন করে তাঁকে শুধু হিসাব বিভাগের দায়িত্বে রাখা হয়েছে
নির্বাহী পরিচালক শফিউল আজমকে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা বিনিয়োগ শিক্ষা বিভাগ থেকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ও ইনভেস্টিগেশন বিভাগের।
রিপন কুমার দেবনাথকে এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে সরিয়ে প্রশাসন ও ফাইন্যান্স বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মীর মোশাররফ হোসেনকে মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে সরিয়ে কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে বাজার মধ্যস্থতাকারী বিষয়ক বিভাগ থেকে সরিয়ে বিনিয়োগ শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তন শেয়ার বাজার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের।