কোন ধরনের বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা হবে তা নিয়ে এক মাসের মধ্যেই তালিকা করে সরকারকে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকগুলোর দেয়া তথ্য ও কলকারখানার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারণ হবে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ। তবে শুধু ঋণ সহায়তা নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তাদের মতে, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পের পার্থক্য স্পষ্টভাবে বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলে কর্মসংস্থানের বাজারও সম্প্রসারিত হবে।
বন্ধ কারখানার ভাগ্য নির্ধারণে সক্ষমতা বিবেচনায় হচ্ছে তালিকা।
এক সময় যে কারখানার মাঠে শত শত শ্রমিক কাজ করতেন, এখন সেই জায়গায় গড়ে উঠেছে মাছের ঘের ও কৃষিজমি। কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতিও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। এতে কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন এমন একটি কারখানা এখন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেউ রফতানি নির্ভর ছিল কিন্তু বৈশ্বিক বাজার হারিয়েছে, কেউ আবার সুদের ভারে ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সমস্যায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে কোন কারখানার কী প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা হবে। এরপর সরকারকে জানিয়ে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সব ধরনের সমস্যাকে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু করা যায়।
বন্ধ কারখানা সচল করতে শুধু ঋণ নয়, ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপরও জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, শুধু সরকার নয়, উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তার আগে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে উদ্যোক্তারা আস্থা হারাবেন।
তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও আলাদা নীতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প আলাদা করে চিহ্নিত করে ঋণ ও সহায়তা দিলে আর্থিক অপচয় কমবে এবং শিল্প খাত পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।