অর্থ লিপি

১৯ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের দামে আগুন: দিশেহারা শেয়ারবাজার

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)-এ লেনদেনে দেখা গেছে এক ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা। সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে, যা বাজারের ভেতরের অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন।

আজ দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) কমেছে প্রায় ৯.৩০ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ৫২৪৭ পয়েন্টে। শরীয়াহ সূচক ডিএসইএস (DSES) কমেছে ৪.২২ পয়েন্ট। তবে ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ (DS30) সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৯০ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৮১৯ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৮০৬ কোটি টাকা থেকে কিছুটা বেশি। যদিও লেনদেন বেড়েছে, তা মূলত নির্দিষ্ট কিছু খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ দর বেড়েছে ১২৫টি কোম্পানির শেয়ারের, বিপরীতে দর কমেছে ২৩৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির। অর্থাৎ, সূচকের তুলনায় বাজারের ভেতরের অবস্থা ছিল বেশি নেতিবাচক।

আজ ইনস্যুরেন্স, টেক্সটাইল ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে তুলনামূলক ভালো গতি দেখা গেছে, তবে তা পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়েনি।

দিনভর লেনদেনে শীর্ষে ছিল CITYBANK, GOLDENSON, ACMEPL, PLFSL, SAIHAMCOT এবং RUNNERAUTO। বিশেষ করে ব্যাংক ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে লিকুইডিটি বেশি লক্ষ্য করা গেলেও কিছু বড় মূলধনী শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল।

বৈশ্বিক প্রভাবেই অস্থিরতা

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। এর ফলে বড় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে চাপ তৈরি করছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে সেক্টরভিত্তিক ভালো শেয়ার বাছাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গুজবনির্ভর লেনদেন থেকে বিরত থাকা এবং ফান্ডামেন্টালি শক্তিশালী কোম্পানিতে বিনিয়োগ ধরে রাখাই হতে পারে নিরাপদ কৌশল। পাশাপাশি কিছুটা নগদ অর্থ হাতে রাখাও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সূচক স্থিতিশীল থাকলেও বাজারের ভেতরে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের শেয়ারবাজার এখনো দিশা খুঁজছে। এমন বাস্তবতায় সচেতন ও পরিকল্পিত বিনিয়োগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।